বাসস
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা, টোটালটা আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা। একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পানিসম্পদমন্ত্রী মো: শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ‘ফ্রেশার্স ওরিয়েন্টেশন ফল-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন।
গতকাল শনিবার সকালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্লাজা এরিয়ায় এ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে, ১৯৯৩ সালে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়ার যে অবদান, তা আমরা স্মরণ করছি। এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অবিস্মরণীয় অবদানকেও আমি স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, শিক্ষা চিন্তাকে বাড়িয়ে দেয়। শিক্ষা আছে কিন্তু নৈতিকতা নেই, এটা বিপজ্জনক। কথাটা একজন নোবেল বিজয়ী বলেছেন। শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি পেলাম; কিন্তু সমাজে এটাকে কাজ লাগাতে পারলাম না, তাহলেও খুব একটা কিছু হলো না। শিক্ষাকে সমাজে অ্যাপ্লাই করতে হবে, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।
নিজের জেলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, জেলখানায় গিয়ে দেখি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন ট্রাস্টি প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে বন্দী। আমি দেখে তো আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমরা না হয় মাঠে-ময়দানে রাজনীতি করি, সে জন্য ফ্যাসিস্ট সরকার জেলে পাঠায়; কিন্তু এদের মতো দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদদেরকেও হাসিনা ছাড়েনি।
তিনি আরো বলেন, এআই আমাদের এগিয়ে দিচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়াতে হবে। শুধু চাকরিনির্ভর বা পুঁথিগত বিদ্যাই সবকিছু নয়। দেশকে দেয়ার অনেক কিছু আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। নির্বাচনী ইশতেহারে যা আছে, তা একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আমরা পালন করার চেষ্টা করছি। একজন সাধারণ মানুষের কাছে যখন যাই, তখন সবার একটা কমন প্রত্যাশা থাকে যেন এলাকার উন্নয়ন হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো নিয়েও কথাবার্তা হচ্ছে। এই মাধ্যমে এমন খারাপ জিনিসও আছে, যা দেখাও ঠিক না।
তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতেই আমরা চাকরির সুযোগ দিতে চাই। এর বাইরের কোনো চিন্তা আমাদের নেই। দেশকে নতুনভাবে গড়ার জন্য অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমার মন্ত্রণালয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছে। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। গ্রামের চাষাবাদ, পরিবেশ, নৌ পরিবহন এবং সর্বোপরি ইকো সিস্টেম ধরে রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য। সারফেস ওয়াটার ধরে রাখাও টার্গেট।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এনভায়রনমেন্ট ও ওয়াটার রিসোর্সের ওপর আপনারা পড়েন, এই জ্ঞান আমরা কাজে লাগাব। ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছর নাগরিকরা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশকে গড়তে হলে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে হবে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাশেম, বেনজির আহমেদ, প্রফেসর দীপক কুমার মিত্র প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ফল সেমিস্টারের নবাগত সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।



