ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ন্যাটোর সংহতি ও প্রতিশ্রুতির দৃঢ়তা যাচাই করতে জোটভুক্ত কোনো দেশে সীমিত পরিসরে হামলা চালাতে পারেন বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে জটিল সাইবার আক্রমণ, হাইব্রিড হুমকি কিংবা পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে ছোট আকারের স্থল অনুপ্রবেশ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
পেন্টাগন ও মার্কিন নীতিনির্ধারকরা জানান, এটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন সম্ভাব্য ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের সাথে সামরিক সঙ্ঘাতের মুখোমুখি হতে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের তীব্র ঘাটতিতে ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখায় মার্কিন অস্ত্রাগারের দূরপাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম), আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল (এটিএসিএমএস) এবং স্টিঙ্গার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পূর্বে মার্কিন বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন পুতিন কোনো ন্যাটোভুক্ত দেশকে সামরিকভাবে উসকানি দেবেন না। তবে চলতি বছরের শুরুতেই সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভেতরের তেলশিল্প ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সম্মুখ সারিতে বিপুল প্রাণহানির তুলনায় রুশ বাহিনীর অগ্রগতি বেশ সীমিত। ফলে অভ্যন্তরীণ ও কৌশলগত চাপের মুখে পড়ে পুতিন আরো বিপজ্জনক ও বেপরোয়া পথ বেছে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পোল্যান্ডে রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়া কিংবা রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোনের অনুপ্রবেশের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে ন্যাটো জোটের প্রতিক্রিয়া দেখার মহড়া হিসেবেই গণ্য করছে পশ্চিমা গোয়েন্দারা।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হিদার কনলি মনে করেন, মস্কোর মূল উদ্দেশ্য ভূখণ্ড দখল নয়, বরং আমেরিকান প্রতিশ্রুতি ও ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জোটটিকে ভেতর থেকে বিভক্ত করা। মার্কিন গোয়েন্দাদের হিসাব মতে, চলতি শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে রাশিয়া এ ধরনের পরীক্ষামূলক হামলা চালাতে পারে। সরাসরি স্থল আক্রমণ ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ (যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা) সক্রিয় করতে পারে বিধায় এর সম্ভাবনা কম হলেও, অস্পষ্ট সাইবার হামলা বা হাইব্রিড ছদ্মবেশী আক্রমণের মাধ্যমে সুযোগ নেয়ার আশঙ্কাই বেশি। তবে অস্ত্র ঘাটতির বিষয়ে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি এবং পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং দেশের প্রতিরক্ষা সুরক্ষায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত সমরাস্ত্র ও দক্ষতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইউক্রেন সঙ্কট এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত চাপের যৌথ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈশ্বিক অস্ত্র ঘাটতি পশ্চিমা সামরিক মহলে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



