বিশেষ সংবাদদাতা
জাতিসঙ্ঘ নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বহু আগেই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শনে এর মূল রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশে এসডিজি-বান্ধব বহু মূল ঘাঁটি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার শতভাগ বাস্তবায়ন করা গেলে কেবল এসডিজির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ হবে না, বরং বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সূচকগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
গতকাল বুধবার শেরেবাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এসডিজি-বিষয়ক সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকীও উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এসডিজির মূল উদ্দেশ্য অর্জনে প্রান্তিক পর্যায়ের হস্তশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। দেশের তৃণমূলের কারিগরদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে সাথে নিয়ে এই বিশাল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
আমীর খসরু বলেন, গ্রামে শীতলপাটি প্রস্তুতকারী বা কামারদের মতো কারিগরদের কেবল মূলধন দিলে চলবে না, বরং তাদের পণ্যের মান বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। সে জন্য তাদের ভালো কাঁচামাল বা ইনপুট কেনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, পাশাপাশি ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা দিয়ে তাদের তৈরি পণ্য আলিবাবা, আমাজন বা ইবের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিপণনের উপযোগী করে তুলতে হবে। এতে তাদের তৈরি ১০ টাকার পণ্যের মান বেড়ে ৩০ টাকায় উন্নীত হবে; যা কারিগরদের আয় বৃদ্ধি করবে এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেখানে ঢাকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে থিয়েটারের সাথে সংশ্লিষ্ট আলোকসজ্জা, মেকআপ শিল্পীসহ সব কারিগরকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলার পেছনে বহুমাত্রিক খাত জড়িয়ে আছে। যার মাধ্যমে নতুন বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব। স্পোর্টস ইকোনমি বা ক্রীড়া অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। থাইল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক মডেলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট ধারণার মাধ্যমে সাধারণ গ্রামীণ পণ্যের গুণগত মান উন্নত করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা ই-কমার্সের মাধ্যমে রফতানি করা হয়। বাংলাদেশেও প্রান্তিক কারিগরদের এই বিশ্ববাজারের সাথে যুক্ত করতে নীতিগত সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের একক প্রচেষ্টা অপর্যাপ্ত। এ জন্য সরকার, এনজিও ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে ফ্যাশন ডিজাইনার, তাঁত বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। বিভিন্ন জায়গায় পাইলট প্রজেক্ট চালিয়ে ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করা হচ্ছে।


