কূটনৈতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আইরিন খানকে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতে পারে। আর বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হতে পারে।
গতকাল আইরিন খানকে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আইরিন খান জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পদে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আইরিন খান বর্তমানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উন্নয়ন ও সুরক্ষাবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী মাসে বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আইরিন খান বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি টানা আট বছর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। পরে রোমভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। আর জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর ও জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
বর্তমানে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরী এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত- দু’জনই জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বিজয়ী করে আনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হলেও জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার যোগাযোগকে কাজে লাগতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণাকালে দীর্ঘদিন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করেছেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। ড. খলিলুর রহমান একই সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তার মেয়াদকাল হবে এক বছর। তার আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সব রদবদল হচ্ছে।



