নয়া দিগন্ত ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি হলো কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করা হবে না। যেহেতু কোনো গণমাধ্যম বন্ধ হচ্ছে না, তাই নতুন গণমাধ্যমের অনুমতি দেয়া হবে। তবে এটি দেয়া হবে আগের নীতিমালা অনুযায়ী।
তিনি আরো বলেন, যদি নতুন আইনে গণমাধ্যমের অনুমতি দিতে পারতাম, তবে সেটি সবচেয়ে সুখকর হতো। কিন্তু নতুন আইন প্রণয়ন করতে গেলে, এ সরকারের আমলে বা এই পুরো ব্যবস্থার মধ্যে নতুন কোনো গণমাধ্যম আসতে পারবে না। গতকাল বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গত ১৫ বছরে টেলিভিশন চ্যানেল রাজনৈতিকভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেখানে পক্ষপাত ছিল। এ সরকারের নীতি হচ্ছে, কোনো মিডিয়া বন্ধ হবে না। সে কারণে নতুন মিডিয়া দেয়া। তিনি বলেন, আমরা চাই, বহু স্বর আসুক। আমি যেহেতু কোনো মিডিয়া বন্ধ করব না, সেহেতু ফ্যাসিবাদবিরোধী যারা আছে, তাদের মিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের ৫২টি চ্যানেল আছে। এর মধ্যে সচল আছে ৩৪টি। যারাই নতুন গণমাধ্যমের আবেদন করেছেন, তারা নিউজ চ্যানেল চাইছেন। আমি বলেছি, আপনারা শিশুদের জন্য একটা চ্যানেলের আবেদন করেন। খেলার চ্যানেল একটি আছে, আরেকটির জন্য আবেদন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, সরকার মিডিয়া শিল্পে একটি ভালো পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। আমরা চেষ্টা করছি একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হোক। সেলফ রেগুলেশনে আসুক। মন্ত্রণালয় এখানে হস্তক্ষেপ করবে না।
সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাণশৈলী উন্নত করতে হবে
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: মাহফুজ আলম বলেছেন, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাণশৈলী উন্নত করতে হবে। অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। গতকাল বুধবার ঢাকার তথ্য ভবনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপার্টদের সমন্বয়ে অনুদানের চলচ্চিত্র নির্মাণে গাইডলাইন প্রদানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ল্যাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই ল্যাবের আয়োজন করে।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। চলচ্চিত্র নির্মাণে গাইডলাইন প্রদানবিষয়ক ল্যাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপার্টরা যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন, তা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের, বিশেষ করে তরুণ নির্মাতাদের সমৃদ্ধ করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই চলচ্চিত্র নির্মাণে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। বাংলাদেশে এখনো সে রকম পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি হয়নি। তবে কবিরপুর ফিল্ম সিটি নির্মিত হলে চলচ্চিত্র নির্মাণে আধুনিক ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, এবারেই প্রথম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে ল্যাব করা হচ্ছে। অনুদানে নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে এ ধরনের ল্যাবের প্রয়োজন রয়েছে। ল্যাবে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য তিনি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
চলচ্চিত্র নির্মাণে গাইডলাইন প্রদানবিষয়ক ল্যাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: কাউসার আহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম ইমরান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



