- সারা দেশে প্রায় ৭১৫টি বিশৃঙ্খল ঘটনা
- সংঘর্ষ দুই শতাধিক
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি বলে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের মতে বিগত যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের চাইতে এবারের নির্বাচন অধিক শান্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের দাবি; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে। পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব তা প্রমাণিত হয়েছে।
নির্বাচনের আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: বাহারুল আলম দাবি করেছিলেন ‘এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। এই নির্বাচন কারো ঠেকানোর সাধ্য নাই।’ সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্যের সাথে সেনাবাহিনীর এক লাখ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন এবং বিজিবি ও র্যাব সদস্য নিয়োজিত ছিল। তারা নির্বাচনকে ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রত্যেকের সাথে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করে। সূত্র অনুযায়ী এত নিরাপত্তার মধ্যেও সারা দেশে প্রায় ৭১৫টি বিশৃঙ্খলার ঘটনায় স্ট্রাইকিং ও টহল টিম দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ছাড়া ২০০টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছু এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ জন আনসার সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আশিকউজ্জামান বলেন, নির্বাচন চলাকালে অ্যান্ড ইউজারদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে প্রায় ৭১৫টি বিশৃঙ্খলার ঘটনায় স্ট্রাইকিং ও টহল টিম দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ছাড়া ২০০টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নোয়াখালী-৫, ফেনী-১, মেহেরপুর-১, দিনাজপুর-৩, সিলেট-১ ও নারায়ণগঞ্জ-১ সহ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা দ্রুত মোকাবেলা করা সম্ভব হয়, ফলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে। টাঙ্গাইল, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৮২ নম্বর কেন্দ্রে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের ১১৯ আরাজী গুঞ্জনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আশিক বলেন, সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন নয়া দিগন্তকে বলেন, ভোটের দিন পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা, নিয়মিত টহল এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। একই সাথে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়।
পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে। জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব- এটাই প্রমাণিত হয়েছে।



