চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ৪ বাইপাস ও ফ্লাইওভার

দরপত্র মার্চে, প্রকল্প ব্যয় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা

Printed Edition

এসএম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

বহুল প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারটি বাইপাস ও একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের নতুন নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নকশা প্রণয়ন শেষ হওয়ার পর মার্চে প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শ্যামল ভট্টাচার্য।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যানজট ও যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৫৫৬ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জাইকার প্রকল্প সহায়তা পাঁচ হাজার ৭০৯ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং সরকারের অর্থায়ন দুই হাজার ৮৪৭ কোটি চার লাখ ৭২ হাজার টাকা।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শ্যামল ভট্টাচার্য জানান, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি নতুন করে প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের চুক্তি হয়েছে। জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেডের নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগে ছয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নকশা প্রণয়নের কাজ করছে। ফেব্রুয়ারিতে নকশার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মার্চে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্থানে মোট ২৫ দশমিক ২৭ কিলোমিটার অংশে চারটি বাইপাস ও একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। বাইপাসগুলো পটিয়া, দোহাজারী, লোহাগাড়া ও চকরিয়ায় এবং ফ্লাইওভারটি সাতকানিয়ার কেরানীহাটে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত পটিয়া বাইপাসের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৭২ কিলোমিটার, দোহাজারী বাইপাস ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার, লোহাগাড়া বাইপাস ৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং চকরিয়া বাইপাস ৭ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার। কেরানীহাট ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার। প্রকল্পের এসব সড়ক অবকাঠামো ছয় লেনের আদলে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথ। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সাথে যোগাযোগে এ মহাসড়কের গুরুত্ব রয়েছে। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যানজটও বাড়ছে। বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মিত হলে এসব এলাকার যানজট কমানোর পাশাপাশি যাতায়াতের সময় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে একই মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে পটিয়ার চানখালী খাল, চন্দনাইশের শঙ্খ নদী ও বরুমতি খাল এবং কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদীর ওপর চারটি ছয় লেনের আদলে আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৫১ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক শ্যামল ভট্টাচার্য বলেন, নতুন নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হলেই দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যক্রম এগোলে মার্চেই দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।