ট্রাম্পের সাথে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মেলোনি : ইতালিতে নয়া মেরুকরণ

Printed Edition
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনি
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনি

আলজাজিরা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, তখন ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে কেবল ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা এতটাই ছিল যে তাকে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এমনকি ট্রাম্প তাকে অত্যন্ত উদ্যমী নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন এবং মেলোনিও ট্রাম্পের সাথে মিলে পশ্চিমা বিশ্বকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

তবে সেই মধুর সম্পর্কে এখন বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান। গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরকালে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় এবং এই যুদ্ধের বিষয়ে আমরা ট্রাম্পের সাথে একমত নই। এর আগে ইতালির সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বোমারু বিমানকে জ্বালানি নিতে বাধা দিয়ে তিনি নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছিলেন।

কেন এই দূরত্ব : রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্তো ডি আলিমন্তের মতে, শুরুতে ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠতাকে ইতিবাচক মনে হলেও এখন তা মেলোনির জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও ইসরাইল বনাম আমেরিকা জোটের এই যুদ্ধ ইতালির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। জনমত জরিপ বলছে, ইতালিতে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা ৩৫ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। সামনে নির্বাচন থাকায় মেলোনি এখন জনগণের মনোভাবকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভোটের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সঙ্কট : সম্প্রতি মেলোনির প্রস্তাবিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ওপর একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মেলোনির বিপক্ষে ভোট দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সংস্কারের বিরুদ্ধে ভোট ছিল না, বরং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ট্রাম্পের প্রতি মেলোনির সমর্থনের বিরুদ্ধে জনগণের নীরব প্রতিবাদ ছিল। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতালির অর্থনীতি বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছে। ইতালি তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায় প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা এখন হুমকির মুখে। এর ফলে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে এবং অর্থনৈতিক ঘাটতিও বেড়েছে। ভারসাম্য রক্ষার লড়াই : তবে মেলোনি রাতারাতি ট্রাম্পের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না। তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী ও কৌশলী নেতা। তিনি একদিকে যেমন ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির প্রতিবাদ করছেন, তেমনি সরাসরি বড় কোনো সঙ্ঘাতের পথেও যাচ্ছেন না। ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করে তিনি বরং ইউরোপীয় মিত্রদের সাথেই সংহতি প্রকাশ করেছেন।