ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেমিতে বিদায় বাংলাদেশের

Printed Edition
বাংলাদেশী ব্যাটারকে আউট করে শূন্যে লাফিয়ে উঠেছেন পাকিস্তানি পেসার সুবহান। ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি  : ক্রিকইনফো
বাংলাদেশী ব্যাটারকে আউট করে শূন্যে লাফিয়ে উঠেছেন পাকিস্তানি পেসার সুবহান। ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি : ক্রিকইনফো

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে এশিয়া কাপে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশন নিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল যুব টাইগাররা। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হতাশায় সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। সেমিফাইনালে গতকাল পাকিস্তানের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ আজিজুল হাকিম তামিমদের। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ফাইনালে উঠার লড়াইটা ঠিকমতো জমাতেই পারল না যুব টাইগাররা। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত দলটি শেষ চারের লড়াইয়ে নেমে ব্যর্থ ছিল ব্যাটিং। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২১ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ছোট লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে ১৬.৩ ওভারেই ১২২ রান করে পাকিস্তান। ৮ উইকেটের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফারহান ইউসুফের দল।

দিনের অপর সেমিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তানের সঙ্গী হলো ভারত। বৃষ্টি বাধায় এই ম্যাচের দৈর্ঘ্য হয় ২০ ওভারে। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ১৩৮ রান করার শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে ১২ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় ভারত। আগামীকাল আইসিসি অ্যাকাডেমি মাঠে বেলা ১১টায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।

দুবাইয়ের সেভেন সেভেনস স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বাধায় ওয়ানডে ম্যাচের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ২৭ ওভারে। আগের দিন বৃষ্টি হানা দিলে গতকাল একটা সময় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার শঙ্কা জাগে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তা হয়নি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিয়ে পঞ্চম ওভারে ব্যক্তিগত ১৪ নিয়ে ফিরে যান রিফাত বেগ। দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি জাওয়াদ আবরার। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও বেশিদূর যেতে পারেননি আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকী। ২০ রান করার পর আজিজুলকে কট বিহাইন্ড করেন সুবহান। কালামকেও ফেরান এই বোলার। নিজের পরের ওভারে মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে বোল্ড করেন সুবহান। শেখ পারভেজ জীবন, ফরিদ হাসান পারেননি দলের হাল ধরতে। শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে দলের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন সামিউন। ২৬.৩ ওভারে অলআউট হয় বাংলাদেশ। যুব টাইগারদের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে ২০ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন আব্দুল সুবহান।

ছোট পুঁজিকে আঁকড়ে ধরে আশা জাগানিয়া শুরু করে বাংলাদেশের বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই হাজমা জহুরকে কট বিহাইন্ড করে দেন ইকবাল হোসেন। সেখানেই যেন থেমে যায় যুবারা। পরের ওভার থেকেই লড়াই শুরু সামির মিনহাস ও উসমান খানের। দলের জয়ের ভিত গড়ে একাদশ ওভারে ব্যক্তিগত ২৭ রানে বিদায় নেন উসমান। তাতে ভাঙে ৮৪ রানের জুটি। ওই ওভারেই সামিউনকে চার মেরে ৩৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন সামির। এরপর আহমেদ হুসাইনকে নিয়ে নিরাপদে দলকে কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছে দেন তিনি। ৫৭ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন মিনহাস।