ববিতে শিবিরের অদম্য জুলাই র‌্যালিতে ছাত্রদলের হামলা, আহত ২০

Printed Edition

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পূর্বঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে হামলা করেছে ছাত্রদল। পরবর্তীতে তা ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শিবির শাখা সভাপতিসহ ১২ জন এবং ছাত্রদলের আটজন মিলিয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিবিরের অদম্য জুলাই কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা ভিসি গেট দিয়ে বের হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে উঠলে ছাত্রদলের কিছু কর্মী মিছিলে বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ তোলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছাত্রদল হামলা চালালে শিবিরের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। সংঘর্ষে আহতদের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ছাত্রশিবিরের ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন (বাংলা), আল-আমিন, হাফিজ সিদ্দিক, হেলাল আহমেদ, আব্দুল্লাহি বাকী (ইংরেজি), আল মামুন সিয়াম, তায়েফ, শারাফাত সিফাতসহ আরো ৩-৪ জন।

ছাত্রদলের ৮ জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন। ইমরান, সিফাত, হৃদয়, জাহিদ, তরিকুল, প্রান্ত, হেনা, আবদুর রহিমসহ আরো কয়েক জন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। ভিসি গেটে পৌঁছলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা নগ্ন হামলা চালায়। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। এতে আমাদের সভাপতিসহ ১৫ জনের মতো আহত হয়েছেন। আমরা উপাচার্যের কাছে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’

অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাস ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিল। ছাত্রদল তাদের সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে। যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী সংগঠনের স্থান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না।’

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (দক্ষিণ) এডিসি বেলাল হোসাইন জানান, ‘ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’