ডিএসই সূচকের ৩ শতাংশ ও মূলধনের ৮ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা হাওয়া

মার্জিন রুলস ২০২৫ চূড়ান্ত করল বিএসইসি

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচকটির ১৫৪ দশমিক ২৮ পয়েন্ট তথা ৩ দশমিক ০১ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছে। রোববার পাঁচ হাজার ১২২ দশমিক ২২ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার সপ্তাহান্তে নেমে আসে চার হাজার ৯৬৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে। এরই ফলে এ সময় বাজারটি তার মূলধন হারায় আট হাজার ৬৩২ কোটি টাকার বেশি। রোববার ছয় লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা বাাজরটির মূলধন বৃহস্পতিবার দিনশেষে নেমে আসে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়।

সপ্তাহের পাঁচটি কর্মদিবসের সব ক’টিতেই পুঁজিবাজারটিতে সূচকের অবনতি ঘটে। এমনিতেই কিছুদিন থেকে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করছিল। তার ওপর গত সপ্তাহের পুরোটাই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূত করার প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ব্যাংকগুলোতে শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি শূন্য ঘোষণার পর থেকে বাজারে অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পায়। বিএসইসির নির্দেশে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ বৃহস্পতিবার ওই পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার নেই; কিন্তু সরকার চাইলে বিনিয়োগকারীদের এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে।

গত সপ্তাহে ঢাকা শেয়ারবাজারে সবগুলো সূচকই বড় অবনতির শিকার হয়। এ সময় প্রধান সূচকটি ১৫৪ দশমিক ২৮ পয়েন্ট তথা ৩ দশমিক ০১ শতাংশ হ্রাস পায়। বাজারটির বিশেষায়িত দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৪৭ দশমিক ১৪ তথা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ ও ৪৩ দশমিক ৪২ শতাংশ তথা ৪ দশমিক ০১ শতাংশ।

সূচকের অবনতি ঘটলেও এ সময় বাজারটির লেনদেনের কিছুটা উন্নতি ঘটে। গত সপ্তাহে ডিএসই দুই হাজার ৪২২ কোটি ২৩ লাখ টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে বাজারটির লেনদেন ছিল দুই হাজার ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আর এভাবে বাজারটির গত সপ্তাহিক লেনদেনও কিছু বেড়ে যায়। আগের সপ্তাহে নিষ্পত্তি হওয়া ৪৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা থেকে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৪৮৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়।

এ দিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন রুলস ১৯৯৯ পরিবর্তন করে মার্জিন রুলস ২০২৫ চূড়ান্ত করেছে। দীর্ঘ ২৬ বছর পর কমিশন ‘মার্জিন রুলস, ১৯৯৯’ রহিত করে নতুন মার্জিন রুলস ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন রিপিল) রুলস, ২০২৫’ জারি করেছে, যা বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

বিএসইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নতুন এই বিধিমালা গত ৩০ অক্টোবর বিএসইসি কর্তৃক অনুমোদিত হয়। কমিশন ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্সের ৩৩ ধারা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে এই নতুন বিধি প্রণয়ন করেছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে এই সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার নাম ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন রিপিল) রুলস, ২০২৫’ এবং এটি কার্যকর হবে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) রুলস, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার তারিখে।

তবে গেজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুরনো মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর অধীনে ইতোমধ্যে গৃহীত বা সম্পন্নকৃত যেকোনো পদক্ষেপ, মামলা বা আইনি কার্যক্রম নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও বলবৎ থাকবে। এসব কার্যক্রম পূর্ববর্তী বিধির অধীনে সম্পন্ন হবে এবং তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগে চলমান কোনো আইনি মামলা বা প্রসিকিউশন মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা যাবে এবং নতুন বিধিমালা সম্পূর্ণরূপে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আগের সেই বিধি কার্যকর বলেই গণ্য হবে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং। এ সময় গড়ে কোম্পানিটির ২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয় যা বাজারটির মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ০১ শতাংশ। গড়ে ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার বেচাকেনা করে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট। ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ দখলে রাখে কোম্পানিটি। উল্লিখিত সময়ে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মনোস্পুল পেপারস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস।

ওই সময় ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকার শীর্ষে উঠে আসে মনোস্পুল পেপারস। ২৯ দশমিক ১৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে ভিএফএস থ্রেড লিমিটেড। মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে অনোয়ার গ্যালভেনাইজিং, ফার্স্ট ফিন্যান্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ও পেনিনসুলা হোটেল।

বিদায়ী সপ্তােেহ ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ দরপতনের শিকার হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিটি। ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল ড্যাফোডিল কম্পিউটার, ওইম্যাক্স ইলেক্ট্রোড, বিআইএফসি, প্যাসিফিক ডেনিমস, ফার কেমিক্যালস, লুব রেফ বিডি, খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং ও এফএএস ফিন্যান্স।