সরকারি চাকুরেদের জন্য সুসংবাদ আসছে! তাদের জন্য নতুন পেস্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারিদের বর্ধিত বেতন দেয়ার জন্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে নবম পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের জন্য শুধু বেসিক (মূল) বেতন দেয়া হবে। পরবর্তী অর্থবছরে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ধরনের একটি প্রস্তাব সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরকে অবহিত করা হয়েছে। এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্কেত পাওয়া গেলে তা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার নয়া দিগন্তকে বলেছেন, আগামী অর্থবছর থেকে সরকারি কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন যে পাবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু সেটা কিভাবে দেয়া হবে তা এখন স্পষ্ট নয়। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকুরেদের যেন মূল বেতন দেয়া হয়। পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাকি অন্যান্য ভাতা পরবর্তী অর্থবছর থেকে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ দিকে বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পেকমিশন ও সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পেস্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পেস্কেল ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় ১১ বছর পার হলেও নবম পেস্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২১ জানুয়ারি তারা সুপারিশ জমা দেয়।
এই সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকুরেদের সর্বনি¤œ বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে। এতে সর্বনি¤œ স্তরে বেতন বাড়বে ১৪২.৪২ শতাংশ এবং এবং সর্বোচ্চ বেতন বাড়বে ১০৫. ১২ শতাংশ। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ২০টি স্কেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। আর বর্ধিত এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে খরচ পড়বে অতিরিক্ত এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দফতরগুলোতে ভাতাগুলো পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে। শর্ত থাকে যে, সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দু’জন সন্তান এই সুবিধা পাবে।
এতে আরো বলা হয়েছে, টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে, কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা করা যেতে পারে।
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। তবে এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর করার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন বেছে নিতে সুপারিশ করা হয়।



