ডিমলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র, বাড়ছে বহুমুখী চাষ

Printed Edition

মো: রেজোয়ান ইসলাম ডিমলা (নীলফামারী)

এক ফসলের নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে নীলফামারীর ডিমলার কৃষি ব্যবস্থা। গত তিন বছরে উপজেলায় ভুট্টার আবাদই বেড়েছে ৪৫০ হেক্টর। একই সময়ে সরিষার আবাদ বেড়েছে ১৪০ হেক্টর, বোরো ১২০ হেক্টর, তরমুজ ৪৯ হেক্টর এবং আউশের ৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে। পাশাপাশি একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের প্রবণতাও বেড়েছে। এ সময়ে উপজেলার ফসলের নিবিড়তা বেড়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ।

উপজেলা কৃষি বিভাগের ফসলভিত্তিক আবাদ-তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ভুট্টা চাষে কৃষকের লাভ থাকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ধানে প্রায় ১২ হাজার এবং সরিষায় ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

গয়াবাড়ী ইউনিয়নের মতির বাজার এলাকার কৃষক মানিক মিয়া বলেন, আগে এলাকায় ধানের চাষই বেশি হতো। এখন জমির ধরন ও মৌসুম বুঝে ভুট্টা, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছে। এতে এক ফসলের ওপর নির্ভরতা অনেক কমেছে। নাউতারা বাজার এলাকার কৃষক সেলিম বলেন, সার কতটুকু ও কখন দিতে হবে এবং ফসলের পরিচর্যা কিভাবে করতে হবে, এসব বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাচ্ছেন তারা। তিস্তা চরের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, চরাঞ্চলের জমিতে ভুট্টার পাশাপাশি কুমড়া, মিষ্টিআলু ও তরমুজের আবাদ হচ্ছে।

আধুনিক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠ পরিদর্শন, প্রদর্শনী, প্রণোদনা ও মাঠ পরিচালনা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সুষম সার প্রয়োগেও দেয়া হচ্ছে পরামর্শ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিমলায় সব ধরনের সার মিলিয়ে বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন। একই পরিমাণ সার সরবরাহ পাওয়া গেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন ধরনের সার মজুদ রয়েছে ৪৫০ মেট্রিক টন। সার বিতরণে ডিলার রয়েছেন ৩২ জন।