রাজধানীর লালবাগ থানার আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকায় বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় সক্রিয় থাকা একাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী আবার প্রকাশ্যে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ও মাদকের কারবারসহ নানাবিধ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পোস্টারিং করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালবাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী লম্বু সোহেল ওরফে লাবু সোহেল গত বছরের ৫ আগস্টের আগেই বিদেশে পালিয়ে গেলেও তার অনুসারী সৈয়দ ইকবাল নাদির প্রিন্স (ওরফে ইয়াবা প্রিন্স), এস এম কাজিম লাকি (ওরফে মদতি লাকি), ইসমাইল হোসেন (ওরফে মুরগি ইসমাইল) ও রেজাউল হক রেজু ফের এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছু দিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি তারা আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকায় পুরনো স্টাইলে জোরপূর্বক দোকান ও জমি দখল এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আজিমপুরের ১৫/এ/৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের মৃত ইদ্রিস খানের একটি দোকান ঘর জোরপূর্বক দখল করে নেয় এ গোষ্ঠীটি। ১৯৯০ সাল থেকে পজিশন ক্রয়সূত্রে ইদ্রিস খান দোকানটির মালিক ছিলেন, যার নামে সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স এবং বিদ্যুৎ মিটার পর্যন্ত বিদ্যমান। একইভাবে পাশের মনির হোসেন নামে অপর এক ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান থেকে বের করে দেয়া হয়। ভুক্তভোগী মনির হোসেন এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ছাড়া আজিমপুরের ১৫/এ/৭ দোকানের পেছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় পুকুর কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ২০০ কোটি টাকার সম্পদ মাত্র ১৫ কোটি টাকায় সালমান এফ রহমানের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর কাছে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। পুকুরটি অবৈধভাবে ভরাট করার পর বর্তমানে সেই খালি জায়গায় ছোট খুপড়ি ঘর বানিয়ে সেখানে রাতে মদ, জুয়া, ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আজিমপুর এলাকায় গুলি এবং দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড, হকিস্টিক) নিয়ে হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে হতাহত করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সৈয়দ ইকবাল নাদির প্রিন্স, এস এম কাজিম লাকি ও ইসমাইল হোসেনকে আসামি করে একাধিক সিআর মামলা ও লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের এ অপকর্মের বিষয়টি লালবাগ থানার সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হলেও তারা কোনো জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে তারা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। শুধু তা-ই নয়, এলাকাবাসী বা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের উল্টো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। সম্প্রতি সৈয়দ ইকবাল নাদির প্রিন্স বাদি হয়ে এলাকার নিরীহ দোকানদারদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। তবে পরে ওই মামলা থেকে দোকানদারদের আদালত খালাস দিয়েছে। এরপরও বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে সন্ত্রাসীগোষ্ঠি।
আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকার সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। লালবাগ থানার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন অনতিবিলম্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সৈয়দ ইকবাল নাদির প্রিন্স, এস এম কাজিম লাকি, ইসমাইল হোসেন, রেজাউল হক রেজুসহ তাদের সঙ্গীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, যাতে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে।



