নিজস্ব প্রতিবেদক
রাসূলুল্লাহ সা:-এর আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও চিন্তাবিদরা। তারা বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত সফলতা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; নাগরিকের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, সুশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সাম্য, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করাই কল্যাণরাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আফতাবনগরের কুরআন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিস (সিপিএস) আয়োজিত ‘রাসূলুল্লাহ সা:-এর আদর্শে বাংলাদেশে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণের মাধ্যমে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। মদিনার রাষ্ট্রব্যবস্থায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক সংহতি, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, তা বর্তমান বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস হতে পারে।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: নবুয়তপ্রাপ্তির আগে থেকেই আদর্শিক মানুষ ছিলেন। তবে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরআনের নির্দেশনাই ছিল মূল পাথেয়। তিনি বলেন, ইসলামে যে পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, তা উন্নত বিশ্বে নেই বললেই চলে। এ কারণে অমুসলিমরাও ইসলামের এ সৌন্দর্যকে ভালোবাসে।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: প্রথম কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরবর্তী সময়ে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগ ও উমর ইবনু আব্দুল আজিজের শাসনামলেও কল্যাণরাষ্ট্রের সফলতার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. নকিব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ কল্যাণরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিসের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম বলেন, রাসূলুল্লাহ সা:-এর আদর্শের অন্যতম ভিত্তি ন্যায় ও জনকল্যাণ। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্বলদের সুরক্ষা, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই বাংলাদেশে কার্যকর কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তার আদর্শ থেকে শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিসের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন পিএসসির সাবেক সদস্য ওএনএম সিদ্দিকা খানম, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুল আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হাকিম আজিজ (অব:), প্রফেসর তহুর আহমদ হেলালী ও অ্যাডভোকেট মশিউল আলম। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, আলেম, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সমাজচিন্তক ও নীতিবিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন।



