জলবায়ুর হুমকিতে শৈশব উপকূলীয় শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে দেশের শিশু-কিশোররা। তারা দুর্যোগকালে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও মানসিক সেবার সঙ্কটে পড়ে ভয়াবহ দুর্দশার শিকার হয়। অথচ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি-আলোচনায় তাদের কণ্ঠস্বর খুব একটা শোনা যায় না।

গতকাল প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে ‘সঙ্কটাপন্ন শৈশব : জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় শিশুদের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সভার আয়োজন করে জেজেএস (যশোরভিত্তিক একটি উন্নয়ন সংস্থা) ও উপকূলীয় শিশু ফোরাম। এতে জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, সিভিল সোসাইটি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় উপকূলীয় শিশু ফোরামের বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধি তায়েবা আক্তার (শরণখোলা), চয়ন মৃধা (মোংলা), সাহারা রহমান (মোরেলগঞ্জ), মুন মণ্ডল (দাকোপ), তানজিলা আক্তার মুক্তি (খুলনা সিটি) ও নাওশীন ইসলাম (আশাশুনি) নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়। স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পড়াশোনার বড় ধরনের ক্ষতি হয়। অনেক শিশু দুর্যোগের পর আর বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে পারে না।

তাদের ভাষায়, দুর্যোগকালে পানির উৎস দূষিত হয়ে লবণাক্ত হয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে দেখা দেয় ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগ। টয়লেট নষ্ট হয়ে যায়, শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ থাকে না। মেয়েশিশুরা যৌন হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়, অনেক শিশু মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারে না। দুর্যোগের পর খেলার মাঠ, বন্ধু ও সামাজিক নিরাপত্তা হারিয়ে শিশুরা আরো বিপন্ন হয়ে পড়ে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

তিনি পরিবেশকে মায়ের সাথে তুলনা করে বলেন, ‘যেমন মা অসুস্থ হলে সন্তান ভালো থাকে না, তেমনি পরিবেশ খারাপ হলে শিশুদের ভবিষ্যৎও অন্ধকার হবে। আমরা যখন শিশু ছিলাম তখন একটি সুস্থ পরিবেশ পেয়েছিলাম, কিন্তু আজকের প্রজন্মকে সেই পরিবেশ দিতে পারছি না।’ তিনি শিশুদের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানান এবং শিশুদের কণ্ঠস্বরকে নীতিতে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানান।