নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
Printed Edition

বাংলাদেশ ১-০ নেপাল ( মানিক)

অনূর্ধ্ব-২০ বা অনূর্ধ্ব-১৯ বা অনূর্ধ্ব-১৮। পুরুষ সাফের এই বয়সভিত্তিক আসরে বাংলাদেশ কখনই সেমিতে হারেনি নেপালের কাছে। যা হার গ্রুপ পর্বে বা লিগ পর্বের ম্যাচে। ফলে কাল মালদ্বীপে এবারের অনূর্ধ্ব-২০ সাফে ময়দানি লড়াইয়ে নামার আগে মানসিকভাবে এগিয়ে ছিল মোহাম্মদ মানিক, নাজমুল হুদা ফয়সাল, রোনান সুলিভানরা। আর মালে স্টেডিয়ামেও ৯০ মিনিটের খেলায় দাপট ছিল লাল-সবুজ যুবাদের। যার ফলে নেপালের বিপক্ষে আরেকটি সেমিফাইনাল জয় পিটার কক্স বাহিনীর। ১০ মিনিটে মানিকের করা গোলেই বাংলাদেশ টানা তৃতীয় বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯/২০ সাফের ফাইনালে। আগামীকাল ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত ও ভুটানের মধ্যকার জয়ী দল। উল্লেখ্য, গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের সেমিতেও নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

ভারতের ম্যাচে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লালকার্ড পেয়েছিলেন কোচ পিটার কক্স। ফলে কাল তিনি ছিলেন ডাগআউটে নিষিদ্ধ। আশ্রয় ছিল গ্যালারিতে। তাই মাঠে হেড কোচের ভূমিকায় আতিকুর রহমান মিশু। মাঠে নেমেই বাংলাদেশ চড়াও হয়ে খেলতে থাকে নেপালের ওপর। প্রথমে সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সালের দু’টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ১০ মিনিটেই ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে যাওয়া। কর্নার থেকে বল সরাসরি বক্সে না ফেলে সামনে ছোট পাস দেয়া হয়। সেই বলে মোর্শেদ আলীর ক্রস চলে আসে ছোট বক্সের ওপর। সেখানে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে থাকা মানিক হেড করেন। এই স্ট্রাইকারের হেডেই পরাস্ত নেপালের গোলরক্ষক। তার মাথা ছুঁয়ে আসা বল পোস্ট ঘেঁষে জালে যায়। এই গোলের পরপরই বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোল করে। গোলদাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভান। কিন্তু অফসাইডে তা বাতিল হয়। প্রধমার্ধেই গোলের ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। তবে সুভাস ভামের শট রুখে দেন বাংলাদেশ কিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।

বিরতির পরও বাংলাদেশ দলের দাপট। অন্য দিকে নেপাল গোল পরিশোধে মরিয়া চেষ্টা চালায়। ৬৫ মিনিটে তাদের ফ্রি-কিক সাইড নেটে আশ্রয় নেয়। একটু পরেই নেপালি অধিনায়ক সুভাস ভামের শট চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে।

হিমালয়ের দেশটি বিচ্ছিন্ন আক্রমণ থেকে গোলের চেষ্টা করলেও গোল পায়নি। উল্টো বাংলাদেশ দল ব্যবধান বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালায়। ইনজুরি টাইমে বাংলাদেশ দুই দফা দ্বিতীয় গোলের কাছে চলে গিয়েছিল। তবে সুমন সরেন ও রোনান সুলিভান বল জালে ফেলতে না পারায় স্কোর বাড়েনি। সুমন সরেন নেপালি কিপারকে একা পেয়েও বল মারেন বাইরে। এরপর ভাই ডেক্লান সুলিভাননের কাছ থেকে বল পেয়েও গোল করতে পারেনি রোনান সুলিভান। তার শট প্রতিহত হন নেপালি কিপারের গায়ে। গতকালই লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক ডেক্লানের।

ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নেয়া মানিক বলেন, আমি এই জয় আমার অসুস্থ মাকে উৎস্বর্গ করছি।