দাফন হবে নারায়ণগঞ্জের শুভর লাশ

Printed Edition

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যার শিকার শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো: বিল্লালের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা কেটেছে। সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা বিল্লালের লাশ ইসলামী রীতিতে দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো: সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বিল্লালের লাশ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার দাফন করতে বলেছেন আদালত।

এর আগে মৃত্যুর পর ওই যুবকের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকার করতে চাইলেও তার স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের দাবি তোলেন। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে বিল্লালের স্ত্রী হাইকোর্টে রিট মামলা করেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী সাংবাদিকদের বলেন, দাফন নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মা ও ভাই উচ্চ আদালতে আবেদন করলে ইসলামী রীতিতে লাশ দাফনের আদেশ দেয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর শুভ ওরফে বিল্লাল খুন হন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় বিল্লালের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি করেন।

অন্য দিকে বিল্লালের মা, ভাই, বোন ও স্ত্রী জানান, তারা ২০০৩ সালে হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তারা মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করছেন। তাই বিল্লালের লাশ মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী দাফন করতে হবে।

রিটে মামলায় বলা হয়, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে জন্মগতভাবে সনাতন ধর্মের অনুসারী শুভ, তার মা পার্বতী রানী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় বিল্লাল। তিনি মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।

পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে। বিল্লালের মৃত্যুর পর তার লাশ দাফন নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে স্ত্রী জ্যোতি ইসলামী রীতিতে দাফনের জন্য প্রথমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট মামলা করেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলিম নারী মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করতে পারেন না। মৃত ব্যক্তিকে মুসলমান হিসেবে গণ্য না করা হলে তার বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এতে তাদের দুই বছর বয়সী সন্তানের পিতৃত্ব ও পরিচয় নিয়েও সঙ্কট তৈরি হতে পারে। শুনানির সময় বিল্লালের ভাই সজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তারা দু’জনেই মাদরাসায় পড়েছেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে কুরআন থেকে একটি সূরা পাঠ করতে বলেন। তিনি সূরা ইখলাস পাঠ করে শোনান। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিল্লালের লাশ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বলে তথ্য দেন রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ।