কক্সবাজার অফিস
কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নামে সরকারি খাসজমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিপ্লব বড়–য়ার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত ৩৭ শতক সরকারি খাসজমি বরাদ্দের কার্যক্রম এগোচ্ছে না। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রটি প্রথমে মো: সাদেকুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে নির্মিত হয়। পরে সরকারি খাসজমির দাগ ও খতিয়ান ব্যবহার করে একটি জাল দানপত্র তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তদন্ত এবং পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর পৃথক নির্দেশনায় কেন্দ্রটির পূর্ব পাশের ৩৭ শতক সরকারি খাসজমি প্রতিষ্ঠানটির নামে বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিপ্লব বড়–য়া প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রেখেছেন। জমির মালিক মো: সাদেকুর রহমান চৌধুরীও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, গত কয়েক মাসে বহুবার সংশ্লিষ্ট দফতরে গেলেও তিনি কার্যকর সহযোগিতা পাননি। তার অভিযোগ, মহাপরিচালকের দফতর থেকেও পুনরায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাসজমি বরাদ্দ ও দখলমুক্ত করা না গেলে নতুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এতে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এ দিকে উপপরিচালক বিপ্লব বড়–য়ার বিরুদ্ধে অতীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে আঁতাত করে পদোন্নতি, দরপত্র ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উত্থাপিত হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপপরিচালক বিপ্লব বড়–য়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো অনীহা নেই। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাজ চলবে।’ কাজে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের করণীয় আমরা করেছি।
অধিদফতর থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জমি বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম হবে।’



