ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু সারা দেশে ভর্তি ১৫৬১

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় দেশের তিন বিভাগে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার সকাল ৮টার পর থেকে গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৫৬১ জন।

ডেঙ্গতে যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের দু’জন চট্টগ্রাম বিভাগে, দু’জন খুলনা বিভাগে, একজন ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের হাসপাতাল এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃতদের একটি ৫ বছরের মেয়ে শিশু, তিনজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ এবং দু’জন নারী। গত জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত সাড়া দেশে মোট ১৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত মারা গেছে এবং একই সময়ে সারা দেশে ৫১ হাজার ৮৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। একই সময়ে ৪৮ হাজার ৯৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে অথবা তাদের নিজের ইচ্ছায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।

গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে ৩০৭ জন। ঢাকায় সারা দেশের মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে বলে এখানে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তবে গতকাল ঢাকার বাইরে খুলনা বিভাগে ২৭৫ জন ভর্তি হয়েছিল। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৩ জন। রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগের হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। ঢাকা বিভাগে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১৭৬ জন।

সারা দেশে ডেঙ্গুতে যে ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে কেবল ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৪৮ জন, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১৮ জন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে খুলনা বিভাগে মারা গেছে ২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে বিভাগে ১২ জন, রাজশাহীতে ৪৬ জন, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে দু’জনের মৃত্যুহয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন : সিসিক প্রশাসক : সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। নগরবাসী নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সহযোগিতা করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে সিসিকের উদ্যোগে গতকাল (১৩ সেপ্টেম্বর) নগর ভবন প্রাঙ্গণ থেকে সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে সিসিক প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। একই সাথে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের এসব উদ্যোগের পরও মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ কাজে সফল হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

পরে র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সিসিক প্রশাসক ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: জাহিদুল ইসলাম, লাইসেন্স অফিসার রুবেল আহমদ নান্নু, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।