গাজা ইস্যুতে বার্লিনালের নীরবতায় তারকাদের ক্ষোভ

সাকিবুল হাসান
Printed Edition
গাজা ইস্যুতে বার্লিনালের নীরবতায় তারকাদের ক্ষোভ
গাজা ইস্যুতে বার্লিনালের নীরবতায় তারকাদের ক্ষোভ

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (বার্লিনাল) কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের প্রথমসারির চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা। তিল্ডা সুইন্টন, হাভিয়ের বারদেম, অ্যাডাম ম্যাককে, আলিয়া শওকত এবং ব্রায়ান কক্সসহ ৮০ জনেরও বেশি খ্যাতিমান অভিনেতা, পরিচালক ও কলাকুশলী এক খোলা চিঠিতে উৎসব আয়োজকদের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি বিনোদন সাময়িকী ‘ভ্যারাইটি’তে প্রকাশিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ‘গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের’ বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়া বার্লিনালের নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণত বার্লিনালকে ভেনিস বা কান চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়েও অনেক বেশি ‘রাজনৈতিক সচেতন’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অতীতে ইউক্রেন বা ইরানের সঙ্কটে অত্যন্ত দৃঢ় ও সরব ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু গাজা ইস্যুতে তাদের এই বর্তমান ‘প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতাকে’ চরম পক্ষপাতিত্ব ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হিসেবে দেখছেন প্রতিবাদী শিল্পীরা।

উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন এবারের উৎসবের জুরি প্রেসিডেন্ট ও প্রখ্যাত জার্মান পরিচালক ভিম ভেন্ডারস। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত এবং সব বিষয়ে তাদের মন্তব্য করা জরুরি নয়। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে উৎসব থেকে নিজের নাম পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ম্যান বুকার পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায়। তিনি তার ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ প্রদর্শনের কথা থাকলেও ভেন্ডারসের মন্তব্যকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ আখ্যা দিয়ে সরে দাঁড়ান। চিঠিতেও শিল্পীরা পাল্টা যুক্তি দিয়ে লিখেছেন, ‘শিল্প এবং রাজনীতিকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব।’ যদিও উৎসব পরিচালক ট্রিশিয়া টুটল শিল্পীদের ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক মন্তব্য না করার স্বাধীনতাকে সমর্থন করেছেন, তবুও এই নীরবতা বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বের পাঁচ হাজারের বেশি শিল্পী ইসরাইলি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছেন, যদিও প্যারামাউন্ট স্টুডিওর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই বয়কটের বিরোধিতা করছে। সব মিলিয়ে শৈল্পিক ও নৈতিক দ্বন্দ্বে বার্লিনাল এখন এক বিশাল অস্থিরতার মুখে পড়েছে।