যুবসমাজকে আদর্শ দক্ষতা ও মানবিকতায় গড়ে তুলতে হবে : এহসানুল মাহবুব জোবায়ের

Printed Edition
চট্টগ্রামে জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগীয় দায়িত্বশীল সমাবেশে বক্তৃতা করেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের :  নয়া দিগন্ত
চট্টগ্রামে জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগীয় দায়িত্বশীল সমাবেশে বক্তৃতা করেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জামায়াতের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও যুব বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, দেশের টেকসই পরিবর্তন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে যুবসমাজকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। এই বিশাল যুবশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যুব জনসংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় তারা বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি এনে কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে বিপুল যুবশক্তির অধিকারী। এ শক্তিকে মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে আদর্শবান, মানবিক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী, উত্তর এবং দক্ষিণ জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

শুক্রবার নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইফনুস। যুব বিভাগের সেক্রেটারি আ ন ম জোবায়েরের সঞ্চালনায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাছের, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইকবাল হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন, জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন সরকার, আমান উল্লাহ আমান ও তৌহিদ আজাদ প্রমুখ।

তিনি আরো বলেন, সরকারের উদাসীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে যুবসমাজ নানা সঙ্কটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য যুবসমাজকে এখন থেকেই সংগঠিত ও প্রস্তুত হতে হবে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেই সফলতা অর্জন করেছে। তাই যুব বিভাগকে রক্তদান কর্মসূচি, মাদকবিরোধী আন্দোলন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানবিক সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলায় বর্তমান সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ইসলামী আন্দোলনের প্রতি যে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করেছে, তা আগামী দিনের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অতীতে যারা ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তারাও আজ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় জামায়াতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ব্যাপক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাই তাদের চিন্তা, রুচি, প্রত্যাশা ও সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুব বিভাগের কার্যক্রমকে আরো যুগোপযোগী, আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।