দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতারা

Printed Edition
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতারা : নয়া দিগন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতারা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। রাজধানী ঢাকার টঙ্গী হাইওয়ের ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগঠনের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছাবার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করেন নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে শহীদ ও আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণকারীদের স্মরণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে মতিঝিলে এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের আগে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। তবে তার আগে সংস্কার, গণহত্যার বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার না করে যেনতেনভাবে একটি নির্বাচন দিলে আবারো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে। ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতে হলে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের বিকল্প নেই।

যখন যারা ক্ষমতায় বসেছে, তারা তাদের স্বার্থে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে বারবার সংশোধন করেছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। এ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করতে হলে রাষ্ট্রীয় সব ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। আওয়ামী লীগ, বিরাজনীতিকরণের লক্ষ্যে বিরোধী দলমতকে দমন করেছে, দলীয় লোকদের দিয়ে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব স্তর নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। নতজানু প্রশাসনের জন্য পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ৫৭ জন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করে দিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র মেরামতের জন্য সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংস্কারে সহযোগিতা করলেও একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের মিত্ররা সহযোগিতার পরিবর্তে নিজেদের দলীয় স্বার্থে নিজেদের মতো করে সংস্কার চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলকে সুবিধা দেয়ার জন্য হয়নি। দেশ ও জাতির কল্যাণে বৈষম্যহীন একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে রূপ দেয়ার জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মহানগরীর মজলিসে শূরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা মোতাছিম বিল্লাহ প্রমুখ।

এ দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ-আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের স্মরণে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-কদমতলী একাংশ) আসনেও দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানার শহরপল্লী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এতিমখানায় খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মাদ কামাল হোসেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তর : জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের ঐতিহাসিক শুভ সূচনা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

গতকাল রাজধানীর মহাখালী জামিয়া মুহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালনকালে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা: এস এম খালিদুজ্জামান, জামিআ মুহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া, ঢাকার মুহতামিম শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা নো’মান, সহ-মুহতামিম মুফতি ওয়াজেদ আলী, গুলশান পশ্চিম থানা জামায়াতের আমির মাহমুদুর রহমান আজাদ ও পূর্ব থানা আমির জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, মূলত, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী বাকশালীদের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের অপশাসন-দুঃশাসনের কবল থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে। জুলাই বিপ্লব আমাদেরকে এ বার্তা দিয়েছে যে, দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যাসহ কোনো মনোপলির রাজনীতি চলবে না। সংগ্রামী জনতা দেশে কোনো ধরনের দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাট, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি হতে দেবে না। দেশে আর কখনো আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও মাফিয়াতন্ত্র ফিরে আসবে না বা জনগণ নতুন করে ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন মেনে নেবে না। মূলত, মানুষের তৈরি আইন দিয়ে দেশ পরিচালিত হওয়ার কারণে মানুষের মুক্তি মেলেনি। তাই জুলাই বিপ্লবের চেতনা উজ্জীবিত হয়ে দেশে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের আলেম সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।