নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারো বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে- এমন আশঙ্কা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং অনিশ্চিত কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে সঙ্ঘাত পুনরায় শুরু হতে পারে। অন্য দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি ভেঙে গেলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো- বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সেতু পর্যন্ত- টার্গেট করে ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, যেখানে গুলি চালানো ও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। ইরান ইতোমধ্যে প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তেলবাহী ট্যাংকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নৌপথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পাল্টা যুক্তরাষ্ট্র এটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলে ইঙ্গিত মিললেও ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে- কোনো আলোচনায় বসার আগে একটি সুস্পষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন। একই সময়ে ইউরোপীয় মিত্ররা তড়িঘড়ি করে কোনো অসম্পূর্ণ চুক্তি করার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানও। তুরস্ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, আর ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সব মিলিয়ে, আলোচনার টেবিল ও যুদ্ধক্ষেত্র- দুই পথই এখন সমান্তরালে এগোচ্ছে, যেখানে একটু ভুল পদক্ষেপও পুরো অঞ্চলকে আবারো ভয়াবহ সঙ্ঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
যেকোনো মুহূর্তে আবারো যুদ্ধ, বলছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে আবারো লড়াই শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গতকাল রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে গালিবাফ এই সতর্কবার্তা দেন বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও এ যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার এ মন্তব্য সামনে এলো। এ দিকে ইসরাইলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য সমাপ্তির আশঙ্কায় ইসরাইলি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, শান্তি চুক্তি না হলে ইরানকে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ন্যায্য এবং যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি আশা করি তারা (ইরান) এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’
ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালিয়েছে- যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন!’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইরান সম্প্রতি প্রণালীটি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমাদের অবরোধ এমনিতেই সেটি বন্ধ করে রেখেছে। তারা না বুঝেই আসলে আমাদের সাহায্য করছে।’
অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাবে না ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বজায় থাকা অবস্থায় আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধিদল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
তাসনিমের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ‘ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধ যতক্ষণ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কোনো আলোচনা হবে না।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তেহরানের নেই।
আজ পাকিস্তানে আসছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা
ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনার জন্য আজ সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। আলজাজিরার খবর অনুসারে, নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কারা এই বৈঠকে অংশ নেবেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে নতুন করে এই বৈঠকের বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বা ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আগে ফ্রেমওয়ার্ক, পরে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরবর্তী দফার আলোচনার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ। তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে তিনি বলেন, আলোচনার আগে একটি সমঝোতা ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা জরুরি। ইরান কোনো ব্যর্থ সংলাপে বসে উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের ‘সর্বোচ্চবাদী’ অবস্থান ও ইরানকে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা চুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দিকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধের বিষয়ে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরানি জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়ায় এর পাল্টা জবাব দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলেও ইরান চুক্তি হবেই
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘মারাত্মক লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে একটি শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্লের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জোনাথন কার্ল জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে সরাসরি বলেছেন, ‘এটি (শান্তি চুক্তি) ঘটবেই। একভাবে না হয় অন্যভাবে। সরাসরি ভালো পথে হোক কিংবা কঠিন উপায়ে- চুক্তি হবেই। আপনি আমাকে উদ্ধৃত করে এটা প্রকাশ করতে পারেন।’
ইরান-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ
তেহরান ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ফোনালাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সর্বশেষ ঘটনাবলি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করেছেন। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের সম্ভাব্য প্রভাব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি এই আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু পাকিস্তানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী শুক্রবারের আগে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের দুটি নিরাপত্তা সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্র দুটি আলজাজিরাকে জানায়, কয়েকটি আলামতের ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
প্রথমত, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অদূরে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশালাকার ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ কার্গো বিমান অবতরণ করেছে। দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দর থেকে ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ পর্যন্ত রাস্তাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা নি-িদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
সর্বশেষ আলামত হিসেবে সূত্রগুলো জানায়, ইসলামাবাদের সেরেনা ও ম্যারিয়ট হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং আগামী শুক্রবার পর্যন্ত নতুন কোনো বুকিং নেয়া হচ্ছে না। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান তুরস্কের
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন- উভয় পক্ষেরই সদিচ্ছা রয়েছে।
তুরস্কে একটি কূটনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ফিদান বলেন, ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার বেশির ভাগ সম্পন্ন হলেও এখনো বেশ কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। আগামী বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাকান ফিদান আরো উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা বর্তমানে লেবানন পরিস্থিতির ওপর ছায়া ফেলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লেবাননে একটি ‘ফেইট অ্যাকমপ্লি’ বা অঘোষিত বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এর আগে গত শনিবার ফিদান অভিযোগ করেন যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্ক মনে করে, এই অস্থিতিশীলতা রোধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
২টি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরিয়ে দিলো ইরান
হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টাকালে গতকাল রোববার দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরিয়ে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বতসোয়ানা ও অ্যাঙ্গোলার পতাকাযুক্ত এই দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে সশস্ত্র বাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সেগুলো গতিপথ পরিবর্তন করে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
ইরান আগেই ঘোষণা করেছে, তাদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। মূলত সেই ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথটিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
ফি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করল ইরান
মিডল ইস্ট আইয়ের খবর অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর আগে জাহাজ চলাচলের জন্য যে বিশেষ পথ বা করিডোর খোলা রাখা হয়েছিল, সেটিও এখন থেকে বন্ধ থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এবং ফি দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে সুযোগ ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনী শাখা সতর্ক করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরানের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেয়ার ট্রাম্প কে?
ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো অধিকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতভেদের মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।
পেজেশকিয়ানকে উদ্ধৃত করে ইরানি স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ) জানায়, ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না।’ কিন্তু তিনি এটি বলছেন না যে, কোন অপরাধে এ বাধা দেয়া হচ্ছে? একটি জাতির অধিকার কেড়ে নেয়ার তিনি কে?’
লেবাননে ২ ইসরাইলি সেনা নিহত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গত দুই দিনে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে চলমান অভিযানে ইসরাইলি বাহিনীর অন্তত ১৫ সদস্য নিহত হলেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
আইডিএফের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, গত শনিবার ৩১ বছর বয়সী সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস (রিজার্ভ) লিডর পোরাত নিহত হন। এর আগের দিন শুক্রবার মারা যান সার্জেন্ট মেজর (রিজার্ভ) বারাক কালফন। এ দুটি ঘটনায় আরো ১২ সেনা আহত হয়েছেন বলে আইডিএফ নিশ্চিত করেছে। তবে ঘটনাগুলোর বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, লেবাননে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) একজন ফরাসি সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দুই ইসরাইলি সেনা নিহতের খবর সামনে এলো।
বাব আল-মান্দেব বন্ধের হুঁশিয়ারি হাউছির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সানাভিত্তিক হাউছি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে হাউছিদের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আল-এজ্জি লিখেছেন, ‘সানা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মানুষ বা জিন- কারো পক্ষেই তা আবার খোলা সম্ভব হবে না।’ হোসেন আল-এজ্জি আরো বলেন, ‘তাই ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের জন্য এটাই মঙ্গলজনক হবে যে, তারা শান্তি বিনষ্টকারী সব কর্মকাণ্ড ও নীতি অবিলম্বে বন্ধ এবং আমাদের জনগণের অধিকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করবেন।’ লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই বাব আল-মান্দেব প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এ পথ দিয়েই সুয়েজ খালের দিকে জাহাজ চলাচল করে। প্রণালীটির সঙ্কীর্ণতম অংশ মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া। এই সরু পথের কারণে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর যাতায়াতের জন্য মাত্র দুটি চ্যানেল ব্যবহার করতে হয়।
তড়িঘড়ি চুক্তি নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি তড়িঘড়ি করা ‘ফ্রেমওয়ার্ক ডিল’ বা রূপরেখা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্ররা। তাদের আশঙ্কা, একটি ভাসাভাসা চুক্তি শেষ পর্যন্ত কারিগরি অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে, যা হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল ও অমীমাংসিত প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো এড়িয়ে কেবল রাজনৈতিক সফলতার জন্য দ্রুত চুক্তি করা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের অপরিপক্ব সমঝোতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিবাদের জন্ম দিতে পারে। তাই তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরো বিস্তৃত আলোচনা ও ইউরোপীয় পক্ষগুলোর জোরালো সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।



