কক্সবাজার থেকে ড্যাশ-৮ ওড়ার পর রানওয়েতে খুলে পড়ে চাকা

Printed Edition
উড্ডয়নের সময় একটি চাকা খুলে পড়া বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দাঁড়িয়ে আছে : নয়া দিগন্ত
উড্ডয়নের সময় একটি চাকা খুলে পড়া বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দাঁড়িয়ে আছে : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ
  • ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড়ার পর বিমানের ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজের একটি চাকা রানওয়েতে খুলে পড়ে যায়। পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের মাধ্যমে ভয়ানক এ বার্তা পেয়ে ঢাকায় জরুরি অবতরণের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানান। পাইলটের মেসেজ পেয়ে ঢাকার রানওয়ে ও আশপাশের এলাকায় নেয়া হয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরপর থেকেই সবার নজর থাকে রানওয়ের দিকেই। কী হয়, না হয়! তবে শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনা কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অভিজ্ঞ পাইলট একটি চাকা ছাড়াই নিরাপদে উড়োজাহাজটি রানওয়ে স্পর্শ করাতে সক্ষম হন। এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হাত থেকে রক্ষা পায় ওই ফ্লাইটে থাকা এক শিশুসহ ৭১ যাত্রী, পাইলট ও কেবিন ক্রু।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে এবং কাদের গাফিলতিতে এমন বিপজ্জনক ঘটনা ঘটেছে তার কারণ খুঁজে বের করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অফ ফ্লাইট সেইফটি ক্যাপ্টেন এনাম তালুকদারকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর ৩ সদস্যের মধ্যে দু’জন পাইলট ও একজন প্রকৌশলী রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৭১ যাত্রী নিয়ে বিমানের (কানাডার বোম্বাডিয়ার কোম্পানির তৈরি ড্যাশ-৮, এসটুএজেডব্লিও) ফ্লাইটটি বেলা ১টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দর খেকে ঢাকার উদ্দেশ টেকঅফ করে। টেকঅফ করার সময় হঠাৎ একটি চাকা (পেছনের বাম দিকের একটি ভেতরের চাকা) রানওয়েতে খুলে পড়ে যায়। পাইলট ফ্লাইট নিয়ে ঢাকার গন্তব্যে যাওয়ার পথে এয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে তাকে চাকা খুলে পড়ার কথা জানানো হয়। পাইলট বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সব যাত্রীকে ইনফর্ম করেন। এরপর ইমারজেন্সি ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য তিনি ঢাকায় বার্তা পাঠান। সেভাবেই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়ে ও এর আশপাশে নেয়া হয় ফায়ারসহ সবধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহ চাকা ছাড়াই ফ্লাইটটি ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ করান। অবতরণের পর সব যাত্রী এয়ারক্রাফট থেকে নেমে যান। যাত্রীরা সবাই অক্ষত আছেন এবং এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা তাদের লাগেজও বুঝে নেন।

গতকাল বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানের ঢাকাগামী (বিজি-৪৩৬) ফ্লাইটটি বেলা ১টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে থেকে টেক অফ করার সময় এয়ারক্রাফট এর ল্যান্ডিং গিয়ারের একপাশের একটি চাকা যান্ত্রিক কারণে খুলে যায়। এ অবস্থায় উক্ত ফ্লাইটের পাইলট ইন কমান্ড ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহ ও তার ক্রুদের দক্ষতা ও বিচক্ষনতায় ফ্লাইটটি বেলা ২টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহর ৮ হাজার ঘণ্টা ফ্লাইং করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওই ফ্লাইটে ৭১ জন যাত্রী ছিল। অবতরণের পর ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা পাইলট, ক্রুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ইমারজেন্সি ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এতে আরো বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিমানের চিফ অব সেইফটি ক্যাপ্টেন এনাম তালুকদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ বি এম রওশন কবীর নয়া দিগন্তকে বলেন, ঘটনা নিয়ে ওই ফ্লাইটের পাইলট কোনো বক্তব্য মিডিয়াতে দিতে পারবেন না। তবে আমরা চেষ্টা করছি, তার একটি বক্তব্য রেকর্ড করে গণমাধ্যমে অথবা বিমানের নিজস্ব ফেসবুকে প্রচার করতে।