জাকার্তায় দুর্নীতি দমনে কড়া আইনের দাবিতে বিক্ষোভ

Printed Edition
জাকার্তায় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় ফটকে ব্যানার-পোস্টার টাঙিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা  ; ইন্টারনেট
জাকার্তায় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় ফটকে ব্যানার-পোস্টার টাঙিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা ; ইন্টারনেট

আলজাজিরা

দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর আইনি পদক্ষেপের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। বৃহস্পতিবার দিনভর পার্লামেন্ট ভবনের সামনে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ নাগরিক ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সমাবেশ পরিচালনা করেন।

২০২৫ সালে সংগঠিত বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। গত বছরের সেই আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে ১০ জন প্রাণ হারান এবং প্রায় সাত হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইনপ্রণেতাদের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সম্মুখে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। রাত বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি রূপ নেয় চরম উত্তেজনাকর অবস্থায়। রাত গভীর হলে উপস্থিত জনতার একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। সঙ্ঘাত নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। সংঘর্ষকালে পুলিশের একটি চৌকি ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, আর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাজধানী ছাড়াও যোগ্যাকার্তা ও মাকাসার শহরের রাজপথে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।

জাকার্তা পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো নিশ্চিত করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৮ হাজার ৫০০ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন ছিল এবং উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে আগাম ৬৫ জনকে আটক করা হয়। অন্য দিকে শীর্ষ নিরাপত্তামন্ত্রী জামারি চানিয়াগো জানান, এই বিপুল মোতায়েন বল প্রয়োগের জন্য নয়, বরং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক ও প্রধান দাবি হলো ২০০৮ সাল থেকে ঝুলে থাকা দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত বিলটি দ্রুত পাস করা। বিলটি অনুমোদিত হলে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। এ ছাড়া সমাবেশে অনেকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদ- কার্যকরের দাবি তোলেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে ‘ইউনাইটেড পাতি কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের নেতৃত্বের সাথে বৈঠকে বসেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। ওই সংগঠনের নেতা সোপ্রিয়ানো জানান, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলটি পাসে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বিক্ষোভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শত শিক্ষার্থী শামিল হয়ে দুর্নীতিবিরোধী দাবির পাশাপাশি সরকারের বিনামূল্যে দেয়া স্কুল টিফিন প্রকল্পের অনিয়ম ও বিষক্রিয়ার প্রতিবাদ জানান। খাবারের মূল্যহ্রাস ও সামাজিক কাঠামোয় সেনানির্ভরতা কমানোর দাবি জানিয়ে এক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, গত বছরের ২৭ আগস্ট সংঘটিত সঙ্ঘাতকে স্মরণ করেই তারা এ দিনটি বেছে নিয়েছেন; তবে তাদের উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয় বরং শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি পেশ করা।