নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশে সহিংসতা, মারামারি ও হামলার ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও অধিকাংশ এলাকাতেই পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করে প্রশাসন।
নোয়াখালী অফিস জানায়, হাতিয়ায় বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও তার মোটরসাইকেলচালক রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকটি ইউনিয়নে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া বাধা দেয়া নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, চারজন ভর্তি রয়েছেন। ওসি সাইফুল আলম বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছ।
যশোর ব্যুরো জানায়, সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের কাউদিয়া গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে জামে মসজিদের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জুয়েল হাসান হিরণ অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো প্রশ্ন তোলেন।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, দু’টি আসনের পাঁচটি কেন্দ্রে হামলা ও সংঘর্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতের ২২ ও বিএনপির দু’জন কর্মী রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ও ছাতিয়ান কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেয়া নিয়ে সংঘর্ষ হয়। মুজিবনগরের জয়পুর কেন্দ্রেও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, রাজৈর উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রের পাশে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে যানবাহনটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলায় তিন সহোদরসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। ফজলুপুর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদের (হাঁস প্রতীক) সমর্থক বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত আবুল হাসেমকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আব্দুল হামিদের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপির স্থানীয় নেতা মিজানুর রহমান মিলনের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে, ভেতরে ভোট স্বাভাবিক ছিল।
ঈদগাঁও (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে গত বুধবার রাতে জামায়াতের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত হোছাইনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, দাউদকান্দি উপজেলায় চার স্থানে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।



