শিশুদের কলকাকলিতে মুখর বইমেলা

আবুল কালাম
Printed Edition
অমর একুশে বইমেলার একটি স্টলে বই দেখছে শিশুরা : নয়া দিগন্ত
অমর একুশে বইমেলার একটি স্টলে বই দেখছে শিশুরা : নয়া দিগন্ত

অমর একুশের বইমেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল ছিল প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ দিন শিশুদের কলকালিতে মুখর ছিল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। খুদে পাঠকদের প্রাণচাঞ্চল্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আগের রেওয়াজ অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গতকাল বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিল শিশু প্রহর। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশু-কিশোররা বাবা মাকে সাথে নিয়ে মেলা ফটকে অপেক্ষা করতে থাকে। মেলায় প্রবেশের পর তারা বিভিন্ন স্টলে নিজের পছন্দের বই কিনতে ভিড় করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিশুদের উচ্ছ্বাস আর কলকাকলিতে মুখর হয়ে মেলার শিশুপ্রহর প্রঙ্গণ। ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা, প্রিয় চরিত্রের গল্প আর নানা আয়োজন ঘিরে ছোটদের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে বইমেলা।

তবে এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। আর বেলা সাড়ে ১০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব।

মেলা ঘুরে দেখা যায় শিশুপ্রহর উপলক্ষে মেলার নির্ধারিত মঞ্চে আয়োজিত গল্প বলা, ছড়া আবৃত্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে অনেক শিশু। আবার আর বই কেনার সাথে চিত্রঙ্কন প্রতিযোগিতা আর পাপেট শো দেখতে কেউ কেউ মগ্ন। নিজের পছন্দের লেখকের বইয়ের সন্ধানে স্টলে থাকা বই উল্টেপাল্টে দেখছে। এক স্টল থেকে ছুটে যাচ্ছে অন্য স্টলে। তবে গতবারের মতো এবারো বইমেলায় নেই সিসিমপুরের জনপ্রিয় চরিত্রগুলো।

গতবার উদ্যানে মন্দিরের গেট দিয়ে ঢুকেই হাতের ডান দিকে ছিল শিশুচত্বর। এবার শিশু চত্বর রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশের জায়গাটিতে। এক দিকে লিটলম্যাগ চত্বর, আর অন্য দিকে শিশু চত্বর। এবার শিশু চত্বরে স্টল রয়েছে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।

শিশু চত্বরে পাপেট শোর বড় আর্কষণ ছিল মঞ্চে হাজির দুই পুতুল বন্ধু অপু ও দিপু। গল্পের ফাঁকে তারা দেয় নানা শিক্ষণীয় বার্তা। অপু দিপু বিদায় নিতেই বেজে ওঠে পরিচিত সুর‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে’। গানের তালে তালে লেজ নাড়তে নাড়তে মঞ্চে আসে বিশাল এক বাঘ পুতুল। সামনে বসা শিশুরা একসাথে চিৎকার করে ওঠে আনন্দে। নাচতে নাচতে বাঘ নেমে আসে শিশুদের মধ্যে। হাত বাড়িয়ে বাঘকে ছুঁতে চায় তারা। হাসি, হাততালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। অনেক শিশু এই বাঘ মামার সাথে ছবি তোলেন।

জুমার নামাজের পর বিকেল থেকে মেলায় আসেন নারী পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের পাঠক। তবে তা ছিল তুলনামূলক কম। এ সময় বেশির ভাগ স্টল ছিল ক্রেতা শূন্য। যারা এসেছেন তাদের বেশির ভাগই খাবারের স্টলে ইফতারি কিনতে ব্যস্ত ছিলেন। আবার অনেকে ইফতারি সামনে নিয়ে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন।

বিক্রেতারা বলছেন, এবার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়তো পাঠক সমাগম না-ও হতে পারে এমনটা মেনে নিয়েই তারা স্টল দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কি হয় তা এ সপ্তাহের পর ধারণা পাওয়া যাবে।

অন্য দিকে নির্ধারিত সময় ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে মেলা শুরু না হওয়াতে আগতদের মধ্যে ছিল অসন্তুষ্টি। পাঠকরা বলছেন, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে বইমুখী করতে বইমেলার পরিবেশ শিশুদের জন্য অনন্য সুযোগ তৈরি করে। তাই এই মেলাটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে তা প্রতি বছরে যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। একটার জন্য অন্যটি বন্ধ রাখা এমন সংস্কৃতি বাদ দেয়া উচিত।

গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৬টি। ঐতিহ্য প্রকাশনী নিয়ে এসেছে লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘আমার বিশ্বাস’। ‘কবি প্রকাশনী’ নিয়ে এসেছে লেখক পিয়াস মজিদের কবিতাগ্রন্থ ‘তারাঝরা অনাথ আকাশে’। ‘বেঙ্গলবুকস’ নিয়ে এসেছে অনূদিত কবিতাগ্রন্থ ‘নিউ নরমাল অ্যান্ড আদার পয়েম’। এবং ‘পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স’ নিয়ে এসেছে পিয়াস মজিদের আরেকটি বই ‘নির্বাচিত কবিতা’।