গাজার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জাতিসঙ্ঘের

Printed Edition
গাজা ও পশ্চিমতীরে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে ইসরাইলের উম আল-ফাহমে ‘৪৮-এর আরব’ ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ  : ইন্টারনেট
গাজা ও পশ্চিমতীরে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে ইসরাইলের উম আল-ফাহমে ‘৪৮-এর আরব’ ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ : ইন্টারনেট

আনাদোলু ও আলজাজিরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও গুলিতে হতাহতের খবর অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের কখনোই লক্ষ্যবস্তু করা বা সামরিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডুজারিক বলেন, গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর নিয়মিত পাচ্ছে জাতিসঙ্ঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় দফতর (ওসিএইচএ)।

তিনি বলেন, হতাহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। গাজার অতিরিক্ত জনাকীর্ণ পরিস্থিতির কারণে শিশুরাও ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। ডুজারিক বলেন, ‘আমরা বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। বেসামরিক নাগরিকদের কখনোই লক্ষ্যবস্তু করা বা সামরিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।’

গাজায় আশ্রয় ও মানবিক সহায়তার সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত অংশীদার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২১ লাখ মানুষের ৯৪ শতাংশেরই আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তা প্রয়োজন। ডুজারিক আরো বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটির বেশি পরিবার গুরুতর বা বিপর্যয়কর মাত্রার খাদ্যসঙ্কটে রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীরও তীব্র সঙ্কট রয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের ই১বসতি প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ২০০টির বেশি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। গতকাল শুক্রবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আনোয়ার বলেন, জেরুসালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত এই ভূখণ্ড দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিমতীর বিভক্ত হয়ে যাবে এবং সংলগ্ন একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গাজা ও পশ্চিমতীরে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত

গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত ১৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু আহমেদ রমজি আকল মারা গেছে। একই দিনে খান ইউনুসে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলিতে এক তরুণ ও এক কিশোরী আহত হয়। এ ছাড়া বেইত লাহিয়া, খান ইউনুস ও দেইর আল-বালাহ এলাকায় গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ২৮৩ জন নিহত এবং চার হাজার ২৪৮ জন আহত হয়েছেন।