সংসদে অধ্যাপক মুজিবের নোটিশ

সরকারদলীয় সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে কর্মকর্তারা কিছু বলতে চান না

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

সরকারি দলীয় সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা কিছু বলতে চান না বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান। এমন ‘সন্ত্রাসী পরিবেশে’ সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অধিকার প্রশ্নের কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে দেয়া দু’টি নোটিশে এ অভিযোগ করেন মুজিবুর রহমান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

জাতীয় সংসদে দেয়া ডেপুটি স্পিকারের বর্ণনায় প্রথম নোটিশে মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেয়া শতাধিক ডিও লেটার বাদ দিয়ে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটার বাস্তবায়ন করা যাবে না।’

ডেপুটি স্পিকারের বর্ণনা অনুযায়ী, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য তার নোটিশে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট অফিসারগণ সরকারি দলীয় সদস্যদের সন্ত্রাসের ভয়ে কোনো কিছুই বলতে চাচ্ছেন না। এমন সন্ত্রস্ত পরিবেশে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকারহারা সদস্যদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করার প্রত্যাশা করেছেন।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, দ্বিতীয় নোটিশে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি নিয়োগের জন্য প্যাডে লিখিত ডিও লেটার দিতে হয়। সে অনুযায়ী রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও তার সুপারিশ অনুযায়ী সভাপতি নিয়োগ দেয়া হয়নি।’ দু’টি নোটিশের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সদস্যের নোটিশ দু’টির বিষয় প্রায় একই ধরনের।’ তিনি বলেন, ‘সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম লক্ষ্য। নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উভয়েই এ লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য যাতে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারেন সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। একই এলাকায় একজন সদস্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্যজনকে যেন গুরুত্বহীন না করা হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে দৃষ্টি রাখবেন।’

তবে বিষয়টি সংসদের হস্তক্ষেপের উপযোগী নয় উল্লেখ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় সদস্যের নোটিশ দু’টি কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৫ উপবিধি (৪) অনুযায়ী বিশেষ অধিকার ক্ষুণেœর প্রশ্ন হিসেবে গ্রহণ করা গেল না বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’