আবারো ঐক্যের পথে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মনকষাকষি অবশেষে কমে আসছে। দ্রুতই আবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জোটের শরিকরা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়ের আগেই আসন সমঝোতা শেষ হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এর আগেই বেশির ভাগ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে এ জোট।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে আসন সমঝোতার আশায় ছিল আট দলের শরিকরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আরো তিনটি দল এ জোটে যুক্ত হওয়ায় সমঝোতায় কিছুটা বিঘœ ঘটে। যে কারণে সব দলই তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার আহ্বান জানায়। সে অনুযায়ী কিছু আসনে সমঝোতাকেন্দ্রিক আসন ছাড়লেও বেশির ভাগ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যরা মনোনয়নপত্র জমা দেয়। ফলে এ জোটে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জোর গুঞ্জন ওঠে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যেও ভাঙনের সুর বেজে ওঠে। একইভাবে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর মাঝেও আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে আবারো ধীরে ধীরে অসন্তোষ-বিরোধ কমে কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে দলগুলো। জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আবারো যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আপিলের সময় চলছে। যাচাই-বাছাইয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বেশকিছু প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর সুরাহা হলে তখন জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। তবে তার আগেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দলগুলো। আর যেসব আসনে ইতোমধ্যে প্রার্থিতা বহাল রয়েছে সেসব আসনে দুই-তিন দিনের মধ্যেই সমঝোতা হয়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পরে। বাকিটা আপিলের রায়ের পর ঘোষণা করা হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম নয়া দিগন্তকে বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার আগেই আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আসন সমঝোতা হয়ে যাবে। কিন্তু না হওয়ায় এবং অন্য সবার মতামত না নিয়েই এনসিপিসহ আরো তিনটি দলকে আসন দিয়ে দেয়ায় আমরা মনে করেছিলাম আর হয়তো একসাথে নির্বাচন করা হবে না। এককভাবে নির্বাচন করতে হবে। এজন্য আমরা সব প্রার্থীকে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে বলেছিলাম। কিন্তু কিছু আসনে প্রস্তুতি না থাকায় সব আসনে জমা দেয়া যায়নি। তবে জামায়াতে ইসলামী থেকে আবার যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরাও মান-অভিমান ভুলে ইসলামের স্বার্থে, ইসলামের পক্ষে এক ভোট বাক্সের স্বার্থে আবার আলোচনা শুরু করেছি। এখন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য আপিল করা হবে। আমাদের ৩৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। আইনজীবীরা আপিল করবেন। তবে এর মধ্যেই আলোচনা চলছে। আশা করি একটি সমাধানে আসা যাবে। কারণ একসাথে নির্বাচন না করলে সবার জন্যই ক্ষতিকর হবে। ইসলামের পক্ষে যে জোয়ার শুরু হয়েছে তাতে ভাটা পড়তে পারে।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, আবারো দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বৈঠক যেকোনো সময় শুরু হবে। আশা করি দুই-তিন দিনের মধ্যেই আমরা একটি তালিকা গণমাধ্যমকে জানাতে পারব। পুরোটা না হলেও আড়াই শতাধিক আসনে প্রথমে দেয়া হবে, এরপর বাকিটা প্রত্যাহারের সময়ের আগেই সমাধান করা হবে। মান-অভিমান ভুলে জোটের ঐক্য আরো বাড়বে। সামনে সবাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামব। তখন এখনকার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান মাওলানা ইউসুফ আশরাফ নয়া দিগন্তকে বলেন, দ্রুতই আবারো আলোচনা শুরু হবে। মাঝের যে অসন্তোষ ছিল তা কমে এসেছে। বৈঠক শুরু হলে আসন সমঝোতাও হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইতোমধ্যে তাদের বেশকিছু আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া আরো কিছু আসনে আলোচনা চলমান রয়েছে। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে সবাই ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, মনোনয়ন যাচাই শেষ হলে আমরা আবারো বসব। আমরা আশা করছি, এ সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিতে পারব।