যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের পাল্টাপাল্টি হামলা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের আকস্মিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এর জবাবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে যুদ্ধবিরতির সাময়িক বিরতি। একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবির পাশাপাশি ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ও রসদ ঘাঁটিতে কড়া জবাব দেয়ার মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিবিসি ও আলজাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। আর এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান যুদ্ধে সাময়িক যে বিরতি এসেছিল, তা ভেঙে গেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে এই হামলা হয়। তবে সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে মাঝপথে ধ্বংস বা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো ঠিক কোথায় ছিল, সেন্টকম তা প্রকাশ করেনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবর অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল বুধবার জানায় তারা জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

এদিকে ইরান পরিচালিত ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনী একযোগে ইরাকে ‘ইরানঘেঁষা সন্ত্রাসী’দের ঘাটিতে হামলা চালিয়েছে বলে সেন্টকম জানিয়েছে। তেহরান এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফিরিয়ে আনার জন্য যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, পাল্টাপাল্টি এই হামলার মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটার ইঙ্গিত মিলছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব মিলে পূর্ব ইরাকে ‘সন্ত্রাসীদের একাধিক রসদ ও অস্ত্রের ঘাটি’তে আঘাত হেনেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পরিচালনায় গত ৭২ ঘণ্টায় যে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, এটি ছিল তার একটি কঠোর জবাব।

সেন্টকম স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের অনুগত ‘সন্ত্রাসী প্রক্সি’দের এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, না হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরো বড় সামরিক প্রতিক্রিয়া আসবে। এর আগে মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই সৌদি আরব জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতে লক্ষ্য করে চালানো বেশ কিছু ড্রোন হামলা তারা প্রতিহত ও ধ্বংস করে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালেকি অভিযোগ করেন, ইরাকের অভ্যন্তরে থাকা ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীগুলোই এই ড্রোনগুলো ছুড়েছিল।

নতুন করে এই সহিংসতা এমন এক সময়ে শুরু হলো, যার ঠিক একদিন আগেই সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’র কথা তুলে ধরেছিলেন। ততক্ষণে টানা তৃতীয় দিনের মতো দু’পক্ষের মধ্যে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।

এই বিরতির আগে অবশ্য টানা ১৩ রাত ধরে ইরানজুড়ে তীব্র বোমাবর্ষণ চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মূল সুড়ঙ্গ ও সেতুগুলো ধ্বংস করার দাবি করে মার্কিন বাহিনী। খবর অনুযায়ী, ওই সব হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।