ভূমিকম্পে ফাটল ধরায় ঝুঁঁকিতে গাজীপুর রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুরের রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে উদ্বোধনের দুই বছরের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। অফিসের চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিনই ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন। নতুন ভবনের এমন দুর্দশা ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জেলা রেজিস্ট্রার মো: মিজানুর রহমান জানান, ফাটল সম্পর্কে গণপূর্ত বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হেজবুল কবির বলেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে শহরের অন্তত ১২টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স পরিদর্শনের জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার দায়িত্বে আছেন।

ভবনটি মারিয়ালি এলাকায় নির্মিত হওয়ায় শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। স্থানীয় দলিল লেখক ও নকলনবিশদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিস্বার্থে অফিসটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। জলাভূমির ওপর নির্মাণের আগে সয়েল টেস্টে ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

ভবনের দুর্বল মাটি, পর্যাপ্ত বসার স্থান না থাকা, আশপাশে ব্যাংক ও নিরাপত্তা না থাকা এবং এলাকায় ছিনতাই-সন্ত্রাসের উপস্থিতি কর্মকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৯০ শতাংশ দলিল লেখক ও নকলনবিশ এখনো নতুন ভবনে অফিস করতে অনাগ্রহী।

জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র জানায়, ভবনের রেকর্ড রুমে শতবর্ষের পুরনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে কালীগঞ্জ (১৮৭৮), কালিয়াকৈর (১৯০৮), জয়দেবপুর (১৯১৭), শ্রীপুর (১৯৬১), কাপাসিয়া (১৯২৪) ও টঙ্গী (১৯৮০) সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নথি রয়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।