প্রিন্স আশরাফ
একশ’ তেইশ.
মাঝির দাঁড়ের ঝপাঝপ আঘাতে পানিতে অজস্র জোনাকির মতো জ্বলজ্বল করছিল।
নাভিদের পিছু পিছু জুয়েলও বেরিয়ে এসেছে। জুয়েলও জলজোছনার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সে সব ভয় ভুলে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই, পানিতে জ্বলছে ওগুলো কী?’
‘ফসফরাস। সাগরের পানিতে ফসফরাস থাকে। স্রোতের সাথে তাই জ্বলে।’
‘আমরা সমুদ্রে এসে পড়েছি নাকি?’
‘জ্বি, সাব। বড় গাঙ ছাড়াইয়ি সাগরে পড়িছি অনেক আগে। আপনারা ঘুমাই পড়িলেন, এজন্যি আর ডাকতি যায়নি।’ হাকিম মাঝি দাঁড় টানতে টানতে ক্লান্ত গলায় বলল।
‘আমরা কোথায় কতদূর এলাম মাঝি ভাই?’ নাভিদ ভয় না পাওয়ার ভান করে প্রশ্ন করল।
মাঝি দাঁড় স্থির রেখে মাথা চুলকায়ে বলল, ‘বুঝতি পারতিছিনে সাব, লৌকা চালাতিছি খুব। কিন্তুক কোনো জায়গায় যে আসবার লাগলাম ঠাহর করতি পারতিছিনে। অন্ধকারে পথ হারায়ি ফেলিছি কিনা, সেইটা ধরবার পারতিছিনে।’ (চলবে)



