বিমানবন্দরের অকশনের মালামাল বিক্রির নামে প্রতারণা : একজন গ্রেফতার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমানবন্দরের অকশন অফিসার পরিচয় দিয়ে জব্দ হওয়া মোবাইল ফোন সেট ও ল্যাপটপসহ অন্যান্য মালামাল কমমুল্যে বিক্রির প্রলোভনে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ৫ জুলাই মধ্যরাতে বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো: ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের একটি দল উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে আগ্রহীদের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পরে অপারেশন ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে আস্থা অর্জন করে। একপর্যায়ে তারা জানায়, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে। একই সাথে তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমা পলিসি নিতে আগ্রহী বলেও দাবি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের জন্য প্রতারকরা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া ডকুমেন্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে। এসব নথিতে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ কেনার জন্য দু’টি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাঠান। টাকা নেয়ার পর কোনো পণ্য সরবরাহ না করে প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পরে ভুক্তভোগী রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। তদন্তভার গ্রহণের পর প্রযুক্তিগত তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম জব্দ করা হয়।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম-পরিচয় ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে স্বল্পমূল্যে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত। শুধু তা-ই নয়, তদন্তে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।