হাসিনা বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছেন : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের ইস্যুটি ভারতের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, এর সাথে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যাকারী সাবেক স্বৈরাচার ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার জায়গা বাংলাদেশে আর নেই। শেখ হাসিনা এখন অপ্রাসঙ্গিক। ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টা যাতে শেখ হাসিনা চালাতে না পারেন, সেই অনুরোধ করা হয়েছে।

ভারত ও মরিশাস সফরের পর গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সফরসঙ্গী হিসাবে গত ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারত এবং ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাস সফর করেন। মরিশাসে তারা ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেন।

হুমায়ুন করিব বলেন, সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার জন্য ভারত সফরটি ছিল একটি ভালো সূচনা। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে ভালো অগ্রগতি করতে পারব। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে আমরা ভারত থেকে ইতিবাচক সৌজন্যতা দেখতে পাব। ভারতে চিকিৎসা ভিসা ও ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে সামনের সপ্তাহগুলোতে অগ্রগতি হবে।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ বলতে বাংলাদেশে এখন আর কিছু নেই। হাসিনা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া তিনি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। তাকে আইনগত প্রক্রিয়ায় আমরা ভারতের কাছ থেকে ফেরত চেয়েছি। তিনি বলেন, ওসমান হাদি (ইনকিলাব মঞ্চের নেতা) হত্যার সাথে জড়িত দুইজনকে ভারত গ্রেফতার করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতাকে একটি রূপরেখার আওতায় আনতে আমরা আগ্রহী। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরটি আঞ্চলিক দেশে হতে পারে, তবে তা চূড়ান্ত না।

তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে মৈত্রী পাইপ লাইনের মাধ্যমে আমরা জ্বালানি সরবরাহ পেয়েছি। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ খাতে ভারত আরো সহযোগিতা দেয়ার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সম্পর্কের দৃশ্যমান অগ্রগতির জন্য আমাদের এই ইস্যুগুলো মোকাবেলা করতে হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় আসনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। এটা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আমরা একটা শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি। এই ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না। ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখায় শেখ হাসিনাও এই ম্যান্ডেট ছিল না। তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে বিক্রি করবে না। আমাদের সরকার জনগণের স্বার্থ নিয়ে কাজ করবে। দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় হোক- বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে আমরা সব সময় প্রাধান্য দেবো।

গতকাল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতরা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।

টেলিনরের গ্রুপ সিইও সাক্ষাৎ : নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নে টেলিনরের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। টেলিনর প্রতিনিধিদলে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমানসহ টেলিনর ও গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশে টেলিনরের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় তরুণ জনগোষ্ঠী, দ্রুত ডিজিটাল জীবনধারা গ্রহণের প্রবণতা এবং ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমের কল্যাণে বাংলাদেশে ডিজিটাল-নির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার শক্ত ভিত্তি রয়েছে বলে উভয় পক্ষ আস্থা ব্যক্ত করেন।