অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সব সূচকের কমবেশি উন্নতি ধরে রেখেই ঈদপূর্ব লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। দিনের শুরুতে বিক্রয়চাপের শিকার হলেও একপর্যায়ে তা সামলে নেয় দেশের দুই পুঁজিবাজার। দিনশেষে দুই বাজারেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডের। তবে শেষ দিবস হিসেবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম থাকায় উভয় বাজারেই কিছুটা অবনতি ঘটেছে লেনদেনের।
রোববার সূচকের উন্নতি দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও ২৫ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপে পড়ে পুঁজিবাজারগুলো। বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত থাকলে সূচকের বড় ধরনের অবনতি ঘটে দুই বাজারে। কিন্তু এরপরই ধীরে ধীরে ঘুরে বাজার আচরণ পাল্টাতে শুরু করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হারানো সূচকের পুরোটাই ফিরে পায় বাজারগুলো। পরে নতুন করে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলেও তা সামলে নেয় বাজারগুলো। আর এভাবে সূচকের উন্নতি ধরে রেখেই দিন শেষ করে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৩২৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি রোববার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে। একই সময়ে বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে দশমিক ৫৪ ও ৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল ৭০ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ১৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি রোববার দিনশেষে স্থির হয় ১৪ হাজার ৯০৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৪০ ও ৩৮ দশমিক ২৪ পয়েন্ট।
সূচকের উন্নতি ঘটলেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেনের অবনতি ঘটে। ডিএসই এ দিন ৭৭৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১২৪ কোটি টাকা কম। শনিবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৯০২ কোটি টাকা। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ২৪ কোটি টাকা থেকে ১৮ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটি উপলক্ষে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের অংশগ্রহণ ছিল না। তারা যা করার আগের দিনগুলোতে শেষ করেছেন। এ কারণেই লেনদেনের এ অবনতি।
এ দিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার থেকে। গতকাল রোববার (২৪ মে) ছুটি পূর্ববর্তী শেষ কর্মদিবস। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায় আজ ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি হিসেবে দেশের দুই পুঁজিবাজার বন্ধ থাকবে। ১ জুন থেকে যথারীতি বাজারগুলোতে লেনদেন শুরু হবে।
জানা যায়, ২৮ মে ঈদুল আজহা ধরে আগে থেকেই ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল সরকার। ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি। ঈদুল আজহার আগে ২৬ ও ২৭ মে দুই দিন এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তিন দিনসহ মোট পাঁচদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি।
তবে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত ৭ মে ছুটি আরো একদিন বাড়াানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। ওইদিন মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২৫ মে ছুটি ঘোষণা ও এর আগে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সে হিসাবে শনিবার সপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিনও পুঁজিবাজার খোলা ছিল। এরপর ১৪ মে ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট সাত দিন বন্ধ থাকবে।
গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। ২০ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১৫ লাখ ৭৬ হাজার শেয়ার হতবদল হয় গতকাল। ১৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রকৌশল খাতের ডমিনেজ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। ডিএসই্র লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মীর আখতার হোসাইন, বিডি থাই ফুডস, আরডি ফুডস, যমুনা ব্যাংক, বিবিএস ক্যাবলস ও আইটি কনসালট্যান্স পিএলসি।
এ দিন ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট। গতকাল কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ডেফডিল কম্পিউটার, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), লিগেসি ফুটওয়্যার, বিডি থাই ফুডস, বিবিএস ক্যাবলস, আইটি কনসালটেন্ট, বিডি ল্যাম্প ও ইসলামিক ইন্স্যুরেন্স।
রোববার ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে ছিল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার ইস্ট ফিন্যান্স। কোম্পানিটি গতকাল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর হারায়। একই হারে দরপতনের শিকার পিপলস লিজিং ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এনসিসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এম হোসাইন স্পিনিং মিলস, আরডি ফুডস, নুরানি ডাইং, তুং হাই নিটিং, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এল আর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড।



