এএফপি
২০২৩ সালে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফার্নান্দো ভিল্লাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শনিবার দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পেশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর কার্যালয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নেপথ্যে থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটরের দপ্তর।
দুর্নীতিবিরোধী নানা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাদৃত আইনপ্রণেতা ভিল্লাভিসেনসিও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে রাজধানী কুইটোতে নির্বাচনী প্রচারণাকালে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। জীবনাবসানের সময়ে জনমত জরিপে তিনি দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে অবস্থান করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ওই হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে অপরাধ সংঘটনের দায়ে ওই সাত আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া প্রশাসনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানো, সাবেক আইনপ্রণেতা রনি আলেগা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ব্যবসায়ী জাভিয়ের জর্দান এবং কুখ্যাত অপরাধ চক্র ‘লস লোবোস’-এর সাথে সম্পৃক্ত চার সদস্য। ওই চক্রটির অভিযুক্ত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ‘পিপো’ ছদ্মনামে পরিচিত লস লোবোসের কথিত প্রধান উইলমার চাভারিয়া।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জাভিয়ের জর্দান এই হত্যাকাণ্ডের পুরো অর্থায়ন ও মূল ছক সাজিয়েছিলেন। লস লোবোস সদস্যদের কাছে ভিল্লাভিসেনসিওর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানোর বিরুদ্ধে। প্রসিকিউটর আনা হিদালগোর তথ্যমতে, ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য রনি আলেগা পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া স্পেন থেকে ইকুয়েডরে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি চাভারিয়ার বিরুদ্ধে ১০ লাখ ডলারের চুক্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরির তথ্য মিলেছে।



