মুহা: আব্দুল আউয়াল রাজশাহী
একসময় দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ফসল ছিল পাট। কৃত্রিম তন্তু ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের বিস্তারে সেই ‘সোনালি আঁশ’-এর গুরুত্ব কমে গেলেও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলার এই সোনালি আঁশ। চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মাঠে ভালো ফলনের সম্ভাবনা আর বাজারে আশাব্যঞ্জক দাম কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর। চলতি মৌসুমে ৪৯ হাজার ৩৩৩ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬৫৬ মেট্রিক টন বেশি। পাট অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এবার প্রায় তিন লাখ ৮১ হাজার ৬৯৬ কুইন্টাল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের কারণে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হবে। রাজশাহীর নওহাটা পাটবাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই দাম কৃষকদের আশাবাদী করে তুলেছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, উন্নত বীজ, কৃষকদের আগ্রহ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাট শুধু অর্থকরী ফসল নয়, পরিবেশবান্ধব কৃষি অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাট অধিদফতর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো: নাদিম আক্তার বলেন, বর্তমান বাজারে পাটের দাম কৃষকদের উৎসাহিত করছে।



