বিএনপি ৩৫টি ও জামায়াত জোট ১৩টি পেতে পারে

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
Printed Edition

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৬টি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গেজেট অনুযায়ী ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি জোট এবং ১৩টি জামায়াত জোট পেতে পারে।

এর পর থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন- তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার গঠনকারী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শতাধিক নারী নেত্রী সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেত্রীদের উপস্থিতিও বেড়েছে।

সরকার ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইসি সূত্রে আরো জানা গেছে, সংসদ সচিবালয়ের তালিকা পাওয়ার পর দ্রুত তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে ঈদের

আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার।

সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে গুরুত্বের সাথে দেখছে বিএনপি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এবং তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেয়ার আলোচনা রয়েছে। যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হননি, সেসব এলাকার নারী নেত্রীদেরও প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হতে পারে।

দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের আনুগত্য, পরিচ্ছন্ন ভাবমর্যাদা এবং পেশাগত ও সামাজিক অবদান- এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তা বিস্তারিত পর্যালোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থীদের বাছাই করা হবে এবং পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

আলোচনায় যেসব নাম :

সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়নের জন্য বিএনপির শতাধিক নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেত্রীর নামও আছে।

আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস; স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ; মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ; বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার; বিএনপি নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী; সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া; সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি; রাশেদা বেগম হীরা; রেহেনা আক্তার রানু; ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী; মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের মরহুম সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী বীথিকা বিনতে হোসাইন। মরহুম বাবু স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বীথিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা এবং ‘অর্পণ আলোক’ নামে মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।

এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত সানজিদা ইসলাম তুলিকেও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন ও শাহিনুর সাগরও আলোচনায় আছেন। সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নাম উল্লেখযোগ্য।

পেশাজীবীদের মধ্যেও কয়েকজন পরিচিত মুখের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমীর নাম শোনা যাচ্ছে। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক নেত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা সময়ে যারা দলকে সময় ও শ্রম দিয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে ‘সুবিধাভোগী অতিথি পাখি’দের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তারা।