নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ডেমরা, বনানী ও রূপনগরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক অটোরিকশাচালকসহ তিনজন খুন হয়েছেন। এই ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখে সেলোটেপ জড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরনে ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের নীল রঙের ইউনিফর্ম শার্ট ও লুঙ্গি। পুরো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে সেখানে লাশ ফেলে যাওয়া হলো, তা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ক্যামেরার কভারেজের বাইরে থাকা একটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ (সিসি ক্যামেরার আওতামুক্ত স্থান) বেছে নিয়ে লাশ ডাম্প করেছে। পুলিশ ধারণা করছে, ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও শ্বাসরোধে হত্যা করার পর চলন্ত কোনো গাড়ি থেকে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেয়া হয়েছে।
ডেমরায় অটোরিকশাচালককে হত্যা : রাজধানীর ডেমরার কামারগোপ এলাকার ৪ নম্বর গেটের বাসিন্দা মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন দেলু (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালককে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় মো: কাজী কামালের জমি থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ডেমরা থানা পুলিশ। নিহতের মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শীতল কুমার জানিয়েছেন, অপরাধীরা ইট ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেছে।
নিহতের মেয়ে লামিয়া আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ রনি (২৫) তার বাবাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত রনিকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘাতক রনি এলাকায় মাদকাসক্ত এবং মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত।
রূপনগরে নারী লাশ উদ্ধার : রূপনগর থানার ৫ নম্বর সেকশনের ২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সড়কের ৩০ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিমের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি টিনশেড বাড়ির ভেতর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দিনের পর দিন লাশ ফেলে রাখা হলেও প্রতিবেশীরা টের পায়নি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্লাইন্ড স্পটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নজরদারির আওতায় আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার কঠোরভাবে দমন করা না গেলে জননিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সাথে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।



