শীত বুড়ি
আব্দুস সালাম
বিছায় যেন ক্ষেতের মাঝে
হুলুদমাখা চাদর
শীত বুড়ি গো ঘুমাও তুমি
দেবো সোহাগ আদর।
চাঁদের প্রদীপ নেই আকাশে
নেই তারারা সাথে
ঘুমাও তুমি মনের সুখে
জাগবে না হয় প্রাতে।
না ঘুমিয়ে জাগলে নিশি
করবে যখন কাঁন্না
তখন তোমার অশ্রু হবে
ঘাসের ডগায় পান্না।
সন্ধ্যা এলে দিনের শেষে
সূর্য গেলে পাটে
জোছনা ধোয়া শাড়ি পরে
শীত বুড়িটা হাঁটে।
শীত বুড়ি
মজনু মিয়া
শীত বুড়ি শীত বুড়ি শোনো
কোথায় তুমি থাকো?
পৌষ ও মাঘে বাংলাদেশে
খুব কষ্টে রাখো!
বুড়া-বুড়ি জড়সড় হয়
আগুন জ্বেলে তাপে
গরম গরম পিঠা মুড়ি
চায় তারা যে ভাঁপে।
খোকাখুকুরা খেতে চায় না
গোসল দেখে ভয়
সর্দি কাশি ও ঠাণ্ডা রোগে
ভোগে এই সময়।
টুসির ঘুম
রফিকুল নাজিম
পড়তে গেলে ঘুম এসে যায়
করবে কী আর টুসি
এত শীতে বিছানাতে
যেতে পারলেই খুশি।
মা এসে তার দেখে অবাক
দারুণ বিভোর ঘুমে
কী আর করা; মা চলে যায়
টুসির গালটা চুমে।
শীতের বুড়ি
নুশরাত রুমু
শীতের বুড়ি রাগ করেছে
সূর্য মামার সাথে
শিশির ধোয়া ঘাসের ওপর
ঘুমায় প্রতি রাতে।
কুয়াশারই চাদর পরে
হাঁটে সকালবেলা
নদীর পাড়ে ঠকঠকিয়ে
করে নানান খেলা।
উত্তরে সব হাওয়া এনে
জানলাতে দেয় উঁকি
গরম জামায় মুড়ে ঘরে
থাকে খোকা খুকি।
ফাগুন এলে পুঁটলি নিয়ে
পালায় শীতের বুড়ি
গাছে গাছে ফোটে তখন
রঙিন ফুলের কুঁড়ি।
ওরে বাপরে বাপ!
রুমানা নাসরীন
শীতের বুড়ি ক্ষেপেছে
পেটটা বুঝি ফেঁপেছে
মেজাজ ভীষণ পেকেছে
ইচ্ছে মতো জেঁকেছে
ওরে বাপরে বাপ!
শীতের বুড়ির ফোকলা দাঁত
হাসি দিয়ে করছে মাত
আমরা সবাই কুপোকাত
ছুড়ছে দেখো দুটো হাত
ওরে বাপরে বাপ!
শীতের বুড়ির কোঁকড়া চুল
ফুল ভেবে সব করছে ভুল
দুই কানে দুই মস্ত দুল
কচকচিয়ে খাচ্ছে কুল
ওরে বাপরে বাপ!
শীতের বুড়ি এসেছে
সুয্যি মামাও ফেঁসেছে
খকখকিয়ে কেশেছে
ফোকলা দাঁতে হেসেছে
ওরে বাপরে বাপ!
শীতের দিনে
শাহাবউদ্দিন শামীম
শীতের দিনে গ্রামবাংলা শিল্পীর আঁকা ছবি
কুয়াশায় ঘেরা পথ ঘাট অনেক দূরের রবি
শীতের দিনে ঠাণ্ডা ভীষণ হিমশীতল ছোঁয়া
খেজুর রসের ঘ্রাণ ছড়ায় ভাপা পিঠার ধোঁয়া ।
শীতের দিনে বরফ জমার গল্পগাথা শুনি
গরম জামা উলের শালে বাঁচার স্বপ্নবুনি
শীতের দিনে পাখির ছায়া রঙতুলিতে ভাসে
পাহাড় নদী সাগর ছুঁয়ে কুটুম পাখি আসে ।
শীতের দিনে পিঠার উৎসব সবার ঘরে ঘরে
পুয়া পাকন ফিন্নি পায়েস যার যা মনে ধরে
শীতের দিনে শান্ত নদী ঢেউয়ের আলাপ নাই
রঙ বেরঙের পালের নাও চলছে সাঁই সাঁই ।
তীব্র শীতে
রেজা কারিম
তীব্র শীতে কাঁপছে স্বদেশ
কাঁপছে নাড়িভুঁড়ি
জোরসে আরো বসছে জেঁকে
বাজিয়ে খুব তুড়ি।
কাঁপছি আমি কাঁপছ তুমি
কাঁপছে ভেতর বাহির
শীতটা সবার কাঁপায় দু ঠোঁট
নিজকে করে জাহির।
সারা দেশে চারিদিকে
শীতের কাঁপুনিতে
ভুগছে মানুষ ভীষণ ভীষণ
এই ভয়ানক শীতে।
ঠিক দুপুরে একটুখানি
রোদের হাসি পেলে
সবার মনে খুব আচানক
স্বস্তি ও সুখ মেলে।
শীতটা আরো ভীষণ কঠিন
দেশের উত্তরবঙ্গে
দিনে রাতে থাকতে যে হয়
শীতের সাথে জঙ্গে।
গরিব-দুখীর কষ্ট
জান্নাত হক দিশা
শীতটা যখন নেমে আসে জেঁকে
ঝুম কুয়াশায় সবই যে যায় ঢেকে
উষ্ণতা চায় সবাই সকাল হলে
সেই চাওয়াটা থামে শীতল জলে
সূর্যি মামা দেয় না দেখা মোটে
গরিব-দুখীর রয় না হাসি ঠোঁটে
তবু মানুষ ছোটে যে সবখানে
বাধ্য, জীবন-জীবিকারই টানে
শীতে কেঁপে ছোটে কাজের দিকে
নয় তো জীবন বিবর্ণ আর ফিকে
নেই সম্বল শরীরও নয় খাসা
মনের জোরই বেঁচে থাকার আশা
হয় প্রকৃতি বিরূপ যখন নিজে
গরিব-দুখীর কষ্ট তখন কী যে!



