লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঈদের ছুটির শুরুতেই প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। গতকাল সোমবার থেকে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় ঈদুল আজহার শেষ কর্মদিবসের পর বেড়ে যায় নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। এর ফলে ঈদের ছুটির শুরুতেই সোমবার সকাল থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের বাড়তি চাপ দেখা দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল বাড়লেও সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে লাইনে থেকে সামান্য ধীরগতিতে কিছু সময়ের ব্যবধানে টোলপ্লাজা অতিক্রম করে। এতে ছিল না দীর্ঘক্ষণের কোনো জনভোগান্তি।
বোরবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে গতকাল সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধু মাত্র ১৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৬ হাজার ৫১৮টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে সাত হাজার ৬১৩টিসহ উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ২৪ হাজার ১৩১টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৭২ লাখ ৭৮ হাজার ১৫০ টাকা।
এর আগে রোববার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৮ হাজার ৪৩৬টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ৫৪৯টিসহ উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯৮৫টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৮৪ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা। এটি ঈদপূর্ব গত পাঁচ দিনের মধ্যে টোল আদায়ের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বলে সকালে নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয়।
এর আগে, শনিবার (২৩ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৫ হাজার ৯৯৯টি। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০ টাকা। শুক্রবার (২২ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৯ হাজার ১১১টি। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৪ হাজার ১৮৭টি।এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা।
এ দিকে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আরো নির্বিঘœ এবং স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে সকাল ১০টার দিকে টোলপ্লাজা এলাকা পরিদর্শন করে সার্বিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। এ সময় সেতু কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশীদ জানান, সকাল থেকে মাওয়া টোলপ্লাজায় আসা যানবাহনের বাড়তি চলাচল থাকলেও সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহনগুলো সেতু পারাপার হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা ও জনভোগান্তি নেই।



