ক্রীড়া প্রতিবেদক
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজে গত পরশু জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। বৃষ্টিবিঘিœত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আইরিশদের ৯২ রানে হারিয়েছে আফগানরা। আর এই জয়ে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সমীকরণ চূড়ান্ত হয়ে যায়। স্বাগতিকদের হারিয়ে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। আইরিশদের হারিয়ে সেই সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সরাসরি খেলার স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে রশিদ খানরা। আর এই সমীকরণে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথ আয়োজনে আগামী বছর ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত হবে ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ওয়ানডে ফরম্যাটের আসন্ন এই বিশ্বকাপে মোট অংশ নেবে ১৪টি দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের জায়গা হয়েছে স্বাগতিক হিসেবে। সেই সাথে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে আইসিসি র্যাংকিংয়ে সেরা আটটি দল। দক্ষিণ আফ্রিকা স্বাগতিক হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করায় এ ক্ষেত্রে সরাসরি খেলা অনেকটা নিশ্চিত বাংলাদেশের। কারণ আয়োজকদের মধ্যে জিম্বাবুয়ে আবার র্যাংকিংয়ে নেই সেরা আটে। যে কারণে ৯-এ থাকলেও একটি দলের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত হবে।
বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে এই বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র্যাংকিংয়ে নয়ে থাকবে হবে। সে ক্ষেত্রে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে আছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ৯০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে উঠে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তানও। আর এই মুহূর্তে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত সেরা ৯-এ থাকতে হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সেটা কি সম্ভব?
৩০ সেপ্টেম্বরের আগে দু’টি ওয়ানডে বাকি আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ভারতের মাটিতে ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এই দুই ওয়ানডে খেলবে ক্যারিবীয়রা। সে ক্ষেত্রে স্বাগতিকদের হারিয়ে কাজটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। আর ভারতের বিপক্ষে সিরিজটিতে জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা আটে ঢোকা হবে না। এমনকি ৯ নম্বরও প্রায় অসম্ভব। কারণ বাংলাদেশের সাথে ৬ রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান। এ সময়ে মধ্যে বাংলাদেশের কোনো ওয়ানডে ম্যাচ না থাকার অর্থ রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর ও কম হওয়ার ঝুঁকি নেই।
৫০ ওভারের ওয়ানডে ক্রিকেটে আইসিসির র্যাংকিং বা পয়েন্ট সিস্টেমে ম্যাচ জয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা নির্দিষ্টসংখ্যক ফিক্সড পয়েন্ট যোগ হয় না। দলগুলোর রেটিং পয়েন্ট গণিত ও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। যেখানে প্রতিপক্ষ দলের র্যাংকিংয়ের দূরত্ব ও শক্তির ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী দলের পয়েন্ট কম বা বেশি হয়ে থাকে। আর তাতে ক্যারিবীয়দের জন্য দুই ম্যাচ জিতে ব্যবধান পুষিয়ে ফেলাও কার্যত অসম্ভব।
ফলে ৫০ ওভারের এই মেগা আসরে জায়গা পেতে ক্যারিবিয়ানদের এখন আবারো লড়তে হবে বাছাইপর্বে। বিষয়টি আইসিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও- এটাই এখন নিশ্চিত বাস্তবতা।
বাছাইপর্বের এমন ফাঁদে ক্যারিবিয়ানরা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপেও তাদের বাছাইপর্ব পার হতে হয়েছিল। ২০১৯ সালে উৎরে গেলেও, ২০২৩ সালে বাছাইপর্বে একাধিক হারের মুখ দেখে শেষ পর্যন্ত মূল পর্বেই উঠতে পারেনি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডকেও ২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে হবে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চলমান পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে জিততে হতো আইরিশদের। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ও দ্বিতীয়টিতে হেরে যাওয়ায় সেই আশা শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে গেছে আয়ারল্যান্ডেরও।



