আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ নবি উল্লাহ নবী। এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি। সংসদীয় আসনটির সার্বিক বিষয় নিয়ে নয়া দিগন্তের আলাপ হয় নবী উল্লাহ নবীর সাথে। তিনি নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর কাছে তার নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এ সময় যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদকে চাঁদাবাজমুক্ত করার অঙ্গীকারও করেন বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী।
নয়া দিগন্ত : আপনার আসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী দেখছেন?
নবী উল্লাহ নবী : আমার সংসদীয় আসনের সব থেকে বড় সমস্যা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের ফলে খুব অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে এই সমস্য সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবো। এ ছাড়াও এই এলাকায় একটি ভালো বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। তাই এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি করতে একটি বিশেষায়িত হসপিটাল স্থাপনের চেষ্টা করব।
নয়া দিগন্ত : আপনার এলাকায় জানযট ও সড়ক অবকাঠামো নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
নবী উল্লাহ নবী : আমার সংসদীয় এলাকার দুটো স্থানে জানযটের সৃষ্টি হয়। এক. ডেমড়া স্টাফ কোয়ার্টার ও দুই. যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। আমি নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে বসে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করব।
নয়া দিগন্ত : যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদকে কিভাবে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করবেন? আপনার পরিকল্পনা কী?
নবী উল্লাহ নবী : আমি নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে পুরো এলাকাকে অপরাধ মুক্ত করা হবে। ঢাকা-৫ আসনে কোনো অপরাধীর স্থান হবে না। এই এলাকাটি হবে অপরাধমুক্ত একটি মডেল এলাকা।
নয়া দিগন্ত : এই এলাকায় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট কারা?
নবী উল্লাহ নবী : আগে আওয়ামী লীগের এমপি ও কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকার থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা সিন্ডিকেট করে চাঁদা তুলত। ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার কারণে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এই অপরাধ সংগঠিত করছে।
নয়া দিগন্ত : এলাকা দূষণমুক্ত করতে কী পরিকল্পনা রয়েছে আপনার?
নবী উল্লাহ নবী : এলাকার পরিবেশ দূষণ রোধে উদ্যোগ নিতে চাই। এ জন্য কলকারখানাগুলো যাতে পরিবেশ সম্মতভাবে উৎপাদন করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে তাদের সহযোগিতায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে পরিকল্পিত বৃক্ষ রোপণে জোর দেয়া হবে।
নয়া দিগন্ত : এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় কী ভূমিকা রাখতে চান?
নবী উল্লাহ নবী : শিক্ষাবান্ধব এলাকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যেসব সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব সেদিকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। এ ছাড়াও শিক্ষাব্যবস্থার উপর অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নয়া দিগন্ত : আপনার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?
নবী উল্লাহ নবী : দীর্ঘ সময় আমি এ এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করছি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমি এলাকার জনগণকে ছেড়ে যাইনি। এ এলাকা ও এই এলাকার জনগণই আমার সব থেকে বিশ্বস্ত আস্থার স্থান। তাদের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমার বিশ্বাস এ এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবেন। আশা করি আমি তাদের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।
নয়া দিগন্ত : যুবকদের নিয়ে আপনাদের কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
নবী উল্লাহ নবী : যুবসমাজ দেশের সম্পদ। সেই সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই এলাকার যুব সমাজকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যুব উন্নয়নের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে। তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হবে।
নয়া দিগন্ত : এলাকার ভোটারদের প্রতি আপনার কী ধরনের আহ্বান থাকবে?
নবী উল্লাহ নবী : আমি দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-কদমতলীর এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। একাধিকবার কারাবরণ করেছি। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি এ অঞ্চলের মানুষের কাছে নতুন বার্তা নিয়ে এসেছি। নতুন স্বপ্নের ঢাকা-৫ গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছি। এই এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত বসবাসের নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আশা করি ভোটাররা আমাকে সে সুযোগ দেবেন।



