ববি প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গত এক মাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত পাঁচটি বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছাত্রদল-শিবির, গণিত-গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, আইন-সমাজবিজ্ঞান এবং ইংরেজি-অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়ান। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এর আগে ৫ আগস্ট ‘অদম্য জুলাই’ মিছিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একের পর এক সংঘর্ষের পর তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কার্যকর বিচার না হওয়ায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
গত ১৫ জুলাই বিজয়-২৪ হলে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো: ইনামুল হকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রক্টর কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেয়া হয়। পরে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।
এর পাঁচ দিন পর গণিত ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকেরাও হামলার শিকার হন। এ ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি হলেও প্রতিবেদন জমা হয়নি। এরপর আইন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়।
৫ আগস্টের সংঘর্ষের পর প্রক্টর উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, অতীতের ঘটনায় বিচার হলে সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা তৈরি হতো না। মুস্তাফিজুর রহমান সৌরভও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত বলেন, আগের ঘটনার বিচার না হওয়ায় বিভাগভিত্তিক সংঘর্ষ ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। প্রক্টর মো: মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন শৃঙ্খলা কমিটি হয়ে সিন্ডিকেটে যাবে এবং সিন্ডিকেটই চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেবে। তার মতে, এসব ঘটনার পেছনে মাদকের বিস্তার থাকতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ভিসি অধ্যাপক ড. মো: মামুন অর রশিদ বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, বিচার হবে।



