ধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ নেতা ও কিশোর আটক

জামালপুরে লাগেজ থেকে লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ধর্ষণের অভিযোগে রৌমারিতে এক যুবলীগ নেতা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। জামালপুরে লাগেজবন্দী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় জাকির হোসেন নামের এক যুবলীগ নেতাকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করেছে গ্রামবাসী। পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ দিকে অপরাধীকে পুলিশে হস্তান্তরের সময় তার ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

রোববার গভীর রাতে উপজেলার পূর্ব কাউয়ারচর এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। আটক জাকির হোসেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব কাউয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপে কর্মরত রয়েছেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একই এলাকার যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন প্রায় রাতেই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং উত্ত্যক্ত করত।

রোববার জাকির হোসেন সুযোগ বুঝে ওই প্রবাসীর বাড়ির বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। তারা যুবলীগ নেতা জাকিরকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং হাত-পা বেঁধে বেদম মারপিট করেন।

খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে। গণধোলাইয়ে আহত জাকিরকে প্রথমে রৌমারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ যখন জাকিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল, তখন শত শত এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে পান্না সরকার (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত ভোর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পান্না সরকার উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের মৃণাল সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলাকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন শিশুটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা শেষে শনি পূজা দেখতে পাশের একটি বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় অভিযুক্ত পান্না সরকার তাকে নির্জন রাস্তা থেকে জোরপূর্বক কোলে তুলে নিয়ে আলাকপুর লালমোহন সরকার প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণ পাশের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় আধাঘণ্টা পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের সদস্যরা তাকে অস্বাভাবিক দেখে বিস্তারিত জানতে চাইলে সে ঘটনার কথা জানায়। পরে স্বজনরা রাতেই তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদি হয়ে নাসিরনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের ইসলামপুরে চরপুটিমারী ইউনিয়নে একটি মাছের প্রজেক্ট থেকে লাগেজবন্দী এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চতলাপাড়া গ্রামে আলমাছ আলীর মাছের প্রজেক্টে পড়ে থাকা লাগেজবন্দী লাশটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, সোমবার রাত ১১টার দিকে মাছের প্রজেক্টের মালিক আলমাছ আলী তার প্রজেক্ট দেখতে এসে প্রজেক্টের এক কোণায় লাগেজটি পড়ে থাকতে দেখেন। লাগেজ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

পুলিশ এসে লাগেজটি উদ্ধার করে। পুলিশ লাগেজ খুলে একটি লাশ দেখতে পায়।

ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই লাগেজের ভেতর থাকা লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে অপু (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সাঁতারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অপু সাঁতারপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সীমান্ত মিয়া (১৫) নামে এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। সে একই গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সীমান্তের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। তার সন্দেহ ছিল, ফোনটি অপু চুরি করেছে। এ নিয়ে এলাকায় একটি সালিস বৈঠকও বসে। তবে সালিসে অপুর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সীমান্ত বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সীমান্ত সাঁতারপুর গ্রামের একটি সেতুর কাছে অপুকে ডেকে আনে। সেখানে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত সাথে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে অপুর পেটে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে অপু ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে।

পরে স্থানীয় লোকজন সীমান্তকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে। এদিকে গুরুতর আহত অপুকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, মূলত মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। অভিযুক্ত সীমান্তকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের অদূরে সৈয়দপুর-নীলফামারী রেললাইন থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াপদা নতুন হাট নেহালপাড়া মঙ্গলবার এলাকা থেকে গতকাল ওই লাশ উদ্দার করা হয়। মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।

ওয়াপদা নতুন হাট নেহালপাড়ার হৃদয় জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে রেললাইনের পাড়ে গিয়ে দেখি লোকটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। মাথার আঘাতে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। মারা গেছে বুঝতে পেরে ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে খবর দেই। প্রায় ২ ঘণ্টা পর সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ এসে লাশ উঠিয়ে মহল্লায় নিয়ে আসে।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার একটি রাবার বাগান থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বাইশারীর আলিক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গিয়ে কঙ্কালটির মাথার খুলি শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়গোড় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনাস্থলটি বাইশারী বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে আলিক্ষ্যং এলাকার হাতির ডেবা নামক স্থানে। কঙ্কালটির পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকায় ডিভাইন রাবার গার্ডেনের গয়াল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রাখাল আনোয়ারসহ সাতজন শ্রমিক সোমবার সন্ধ্যায় গয়াল আনতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মৃত্যু বশির উল্লাহর জায়গায় একটি মানব কঙ্কাল দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মঙ্গলবার পুলিশ কঙ্কালটি উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটির বিভিন্ন হাড়গোড়, মাথার খুলি ছাড়াও একটি ব্যাগ, কিছু ওষুধ, তারকাটা, লুঙ্গি ও একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।