১৭ বছর বয়সী রাজায় মুগ্ধ ওয়াসিম

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

সাবেক ক্রিকেটার বা তারকা খেলেয়োড়রা মাঠে উঠতিদের নৈপুণ্য দেখেই বুঝতে পারেন কতদূর যাবেন একজন খেলোয়াড়। এভাবেই নতুন নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করেন কোচরা। সাবেক ক্রিকেটাররা ইঙ্গিত করেন কোথায় কোন প্রতিভা আছে। পাকিস্তানের উঠতি পেস বোলার আলি রাজাকে ঘিরে তেমনই ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ওয়াসিম আকরাম। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলারের চোখে পড়া মানে অবশ্যই অমিত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার ১৭ বছর বয়সের আলি রাজা। সিনিয়র লেভেলে অভিষেকের আগেই জুনিয়র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জানান দিয়েছেন তার প্রতিভা।

এ কিংবদন্তির মতে, ডানহাতি আলি রাজা হতে পারেন পাকিস্তানের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ। সম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, আমি খুব কমই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট দেখি, তবে আলি রাজাকে দেখেছি। ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। যদি ও সঠিক দিকনির্দেশনা পায় এবং শেখে কিভাবে লাল বলে শীর্ষ বোলার হতে হয়, তাহলে সাদা বলেও সাফল্য এমনিতেই আসবে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি রাজা। প্রথম শ্রেণী, লিস্ট এ ও টি-২০ মিলে ৩৩ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। প্রথম শ্রেণীতে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলে ৩২ উইকেট, লিস্ট এ ম্যাচ ১২টি খেলে ভাণ্ডারে জমা করেছেন ১৭ শিকার। আর টি-২০তে ১৬ উইকেট নিতে ব্যয় করেছেন ১৫ ম্যাচ।

তাতেই আকরামের নজরে এসেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স নজরকাড়া। সর্বশেষ পাকিস্তান সুপার লিগে পেশোয়ার জালমির হয়ে ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। তরুণ এ পেসারের গতিও বেশ ভালো। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির আশপাশে নিয়মিত বল করেন। গত পিএসএলে তো ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতেও বল করেছেন। সব মিলিয়ে তার মধ্যে ভালো সম্ভাবনা দেখছেন ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম এই নায়ক।

পাঞ্জাবে জন্ম নেয়া আলি রাজা ১৪ বছর বয়সেই জায়গা করে নেন পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। মুলতানে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে অভিষেক হয় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর। সেই ম্যাচে ৪৪ রানে নেন ২ উইকেট। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট। তার এই উইকেট শিকারের হারই বলে দিচ্ছে সব ঠিক থাকলে আগামীতে ক্রিকেট বিশ্বের পিচ কাঁপাবেন এই পেসার।

বিশ্বের সব দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ক্রিকেটার সুযোগ পান না। যেমন ভারতের আইপিএলে অনেক দিন ধরেই নিষিদ্ধ পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। ভারতের ক্রিকেটাররাও যান না পাকিস্তানের লিগে খেলতে। ভারতীয়রাও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলতে বিসিসিআইয়ের সবুজ সঙ্কেত পান না। এই ধারার ঘোর বিরোধী সুইং সুলতান। তার মতে, ‘প্রতিটি লিগে সব দেশের খেলোয়াড়ের জন্য খেলার সুযোগ রাখা উচিত। এ বিষয়ে আইসিসি ও বোর্ডগুলোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।