নরওয়েতে ভাইরাল ‘ব্যালকনি পিজ্জা’

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

রেস্তোরাঁয় গিয়ে টেবিলে বসে কিংবা ওয়েটারের হাত থেকে পিজ্জা নেয়ার প্রথাগত দিন শেষ ছাপিয়ে নরওয়ের রাজধানী ওসলোর রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। সেখানে পিজ্জাপ্রেমীরা একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দার নিচে ভিড় করেন, রাস্তা থেকে চিৎকার করে নিজেদের অর্ডার জানান এবং ওপর থেকে একটি কাঠের ঝুড়িতে করে দড়ি বেয়ে নেমে আসে গরম-গরম তাজা পিজ্জা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হওয়া এই অভিনব উদ্যোগের নাম ‘পিজ্জা ফ্রম অ্যা ব্যালকনি’।

সিএনএনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওসলোর বাসিন্দা পেটার গ্রান সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে এই অদ্ভুত ব্যবসার আইডিয়াটি পান। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পেটার যখন তার বারান্দায় বাবা ও ভাইকে একটি টেবিল তৈরি করতে দেখছিলেন, তখন তিনি খেয়াল করেন যে নিচের রাস্তার মানুষের কথাবার্তা ওপর থেকে খুব স্পষ্ট শোনা যায়। শখের পিজ্জা মেকার পেটারের মাথায় তখনই বুদ্ধি আসে বারান্দা থেকেই পিজ্জা বিক্রি করার। তার ভাই তো আরো এক কাঠি বাড়িয়ে পেটারকে না জানিয়েই বারান্দা থেকে পিজ্জা নিচে নামানোর জন্য একটি কপিকল বা পুলি সিস্টেম তৈরি করে ফেলেন।

শুরুতে পাড়ার লোক ও বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রথম ইভেন্টে ২৩টি পিজ্জা বিক্রি করা হয়েছিল। শর্ত একটাই- কোনো গ্রাহক অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। দুই বছর পর এই মজার খেয়ালি উদ্যোগ এখন একটি সুসংগঠিত কমিউনিটি ব্যবসায় রূপ নিয়েছে, যা দেখতে শত শত স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকরা ভিড় করছেন।

তবে এই পিজ্জা সহজে মেলে না। এটি বছরে মাত্র ১৬ সপ্তাহ এবং সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য খোলা থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলার সময় ঘোষণা করা মাত্রই নিচে লাইন পড়ে যায়। গ্রাহকরা নিচে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাম ও পিজ্জার নাম উঁচুতে চিৎকার করে বলেন। অর্ডার তৈরি হলে ওপর থেকে নাম ধরে ডাকা হয়।