পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা হয়েছে : শিক্ষা উপদেষ্টা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার সংস্কৃতি চিরদিনের বন্ধ করে দেয়ার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপদক সি আর আবরার। শিক্ষার্থীদের তার মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নম্বর পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে এই নিয়ম ভেঙে যথেচ্ছভাবে উত্তরপত্রে বেশি নম্বর দেয়ার জন্য শিক্ষকদের চাপ দেয়া হতো। ফলে গত ১৫ বছরে মেধার কোনো মূল্যায়ন হয়নি। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের সেই অপসংস্কৃতি থেকে শিক্ষা কাঠামোকে বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন মেধার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রকৃত নম্বর প্রদানের নীতি অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেছেন, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন অসম্ভব। তাই নম্বর বাড়ানোর সংস্কৃতি কখনোই ফিরে আসবে না।

গতকাল শনিবার ঢাকার বাইরে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-অংশীজনদের নিয়ে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শতাধিক শিক্ষক এতে অংশ নেন। সংলাপে পাবলিক ও প্রাইভেট শিক্ষার মানের বৈষম্য কমাতে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে শিক্ষা উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। যারা রাজনীতি করতে চান, তারা রাজনীতিতেই যুক্ত হোন; কিন্তু শ্রেণিকক্ষের নিরপেক্ষতা অক্ষুণœ রাখতে হবে। শিক্ষা ও রাজনীতির অনাকাক্সিক্ষ সংমিশ্রণ বহু প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এ সময় তিনি জানান, অতীতে শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা পরিচালনায় মারাত্মক অব্যবস্থাপনার কারণে উদ্বেগজনক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ডায়ালিসিস, ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগে আক্রান্ত শিক্ষক বছরের পর বছর তাদের প্রাপ্য অর্থ না পাওয়া অমানবিক। আমরা এর দ্রুত সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি। এই সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, হিসাবপত্র হালনাগাদ ও সরকারের অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বকেয়া অর্থের নিষ্পত্তি শুরু হবে।

সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান, সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা।